দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে সমস্যার শেষ নেই। এরমধ্যে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অভাব। বিদ্যুৎ সমস্যা জর্জরিত বন্দরে বাণিজ্যসহ কাস্টমস, ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম চলছে জেনারেটরের উপর ভর করে।
বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় দেখা যায়, দিনের অধিকাংশ সময় এখানে বিদ্যুৎ থাকেনা। আর ঝড় বৃষ্টি হলে কমপক্ষে দুই দিন বিদ্যুতের দেখা মেলে না। তাই সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানেই বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে জেনারেটর। বন্দর, কাস্টমস চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন, পর্যটন কর্পোরেশন, ব্যাংক, বিমা সব খানেই দেখা যায় জেনারেটরের লাইন সংযোগে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এসব জেনারেটর কর্ম ক্ষমতা বেশি না হওয়ায় ভারি যন্ত্রের মেশিনগুলো ভালোভাবে চলছে না। মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য খালাশ কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, শুরু থেকেই এখানকার অবকাঠামোর বেহাল দশা। বন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫-৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হচ্ছে। যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। এটি এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে অবহেলিত।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি ওমর শরিফ জানান, কম্পিউটারে পাসপোর্ট যাত্রীর কাগজ পত্রের কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়। যাত্রীদের সমস্ত তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সার্ভার বিকল হয়ে কাজে বাধা হয়। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী যুগ্ম কমিশনার-১ জানান, এখন বিদ্যুৎ ছাড়া কিছুই ভাবা যায়না। যদিও কাস্টমস হাউজে বিকল্প ব্যবস্থা জেনারেটর আছে। কিন্তু জেনারেটর তো দীর্ঘক্ষণ চলেনা। তাই এখানে বাণিজ্যের স্বার্থে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ থাকা অবশ্যই দরকার।
শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মনোয়ারুল ইসলাম জানান, ৩২ কিলোমিটার দূরে যশোর থেকে বিদ্যুতের লাইন এনে বেনাপোল বন্দর এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ঝড়, বৃষ্টিতে তারের উপর গাছ পড়ে গেলে তখন বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখা হয়। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারনে বিদ্যুতের গ্রিড সাব স্টেশন বসানো হচ্ছে। এক বছর লাগবে কাজ শেষ হতে। তখন এখানে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জামান