মিসবাহ-ইউনিসকে আইসিসির অভিনন্দন

বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য পাকিস্তানের দুই সেরা খেলোয়াড় অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ও ইউনিস খানকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ডোমিনিকা টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন মিসবাহ ও ইউনিস। 
 
অবিস্মরণীয় জয় দিয়েই শেষ হলো তারকা এ দুই খেলোয়াড়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। তাই মিসবাহ-ইউনিসের প্রশংসা করে আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘এই দুই ব্যাটসম্যান ক্রিকেটের জন্য নিজেদের সেরাটাই উজাড় করে দিয়েছেন। আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করেছেন ভক্তদেরও।’ 
 
মিসবাহ-ইউনিসের বিদায়ী টেস্টে ১০১ রানে পাকিস্তান জয় পায় । ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় মিসবাহর নেতৃত্বাধীন দলটি। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এই প্রথমবারের মত টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো পাকিস্তান। 
 
৭৫ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০ সেঞ্চুরি ও ৩৯ হাফ সেঞ্চুরিসহ মোট ৫২২২ রান করেছেন মিসবাহ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৬২টি ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি না থাকলেও ৪২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ডান হাতি এ ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ ৫১২২ রান । টেস্ট ও ওয়ানডের সাথে ৩৯টি টি-২০ ম্যাচে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৭৮৮ রান করেছেন ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মত টেস্ট র‌্যাংকিং-এর শীর্ষ স্থানও দখল করেছিল পাকিস্তান।
 
টেস্ট ক্রিকেটে ১১৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৩৪টি সেঞ্চুরি ও ৩৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১০০৯৯ রান করেছেন ইউনিস। ৩১৩ রান, তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২০০৯ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী সর্বোচ্চ রানের এ ইনিংসটি খেলেন তিনি। এছাড়া ২৬৫ ওয়ানডেতে ৭২৪৯ ও ২৫টি-২০ ম্যাচে ৪৪২ রান আছে ইউনিসের। তার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে পাকিস্তান একবারই টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করে। 
 
তাদের এমন সব পরিসংখ্যান থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেটে মিসবাহ-ইউনিসের অবদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। শুধুমাত্র ব্যাট হাতেই নয়, অধিনায়ক হিসেবেও দু’জন পেয়েছেন সেরা সাফল্য। এজন্য মিসবাহ-ইউনিসের পুরো ক্যারিয়ারের পারফরমেন্সের প্রশংসা করেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন, ‘পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত সব ইনিংস খেলেছেন মিসবাহ। কঠিন সময়ে দারুণসব ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে উদ্ধারও করেছেন তিনি। কিভাবে রান করতে হয় মিসবাহ সেটা জানেন। ২০১৪ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ বলে সেঞ্চুরিটি ছিল অসাধারণ। রেকর্ডে স্যার ভিভ রিচার্ডসের পাশে নাম লিখিয়েছেন মিসবাহ। অধিনায়ক হিসেবেও তার সুনাম ব্যাপক। কঠিন সময়ে দলের দায়িত্ব নেন এবং যোগ্য নেতা হিসেবেই দলকে সামনে টেনে নিয়ে যান। তার অধীনেই পাকিস্তান টেস্টের শীর্ষে উঠেছিলো। সে একজন সত্যিকারের খেলোয়াড় ও রোল মডেল। ২০১৬ সালে আইসিসি’র স্পিরিট অব ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন মিসবাহ।’
 
মিসবাহ’র মত ইউনিসের প্রশংসাও করেছেন রিচার্ডসন। তিনি বলেন, ‘ইউনিস পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। সবসময় নিজের সেরাটাই দিয়েছে সে। শ্রীলংকার বিপক্ষে ট্রিপল ও ভারতের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি, ইউনিসকে সেরা ব্যাটসম্যানের খেতাবই দিয়েছে। স্পিন বোলিং-এ দুর্দান্ত এক ব্যাটসম্যান ইউনিস। অধিনায়ক হিসেবে সে পরীক্ষিত। তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানকে ভালো সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বে টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপাও জয় করেছিলো পাকিস্তান। অসাধারণ ক্যারিয়ারের জন্য এই দুই ব্যাটসম্যানকে আমি আইসিসি’র পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। আগামী বছরগুলোতেও তাদের কর্মের সাফল্য কামনা করি।’
 
ইত্তেফাক/সাব্বির