রাজধানীর ধানমন্ডিতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক শিল্পপতিকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় তার স্ত্রী ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের বিপরীতে কিংস বেকারীর সামনে থেকে শিল্পপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও তার বড় ছেলে ইমামুল মুরসালিন উদয়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তোলে। পরে মোহাম্মদপুরের আসাদগেটে ঐ মাইক্রোবাস থেকে উদয়কে নামিয়ে দেয়া হয়। ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে নিয়ে মাইক্রোবাসটি মিরপুর রোড দিয়ে শ্যামলীর দিকে চলে যায়। ঐ দিন রাতে ইসমাইল হোসেন সিরাজীর স্ত্রী রুবাইয়া গুলশান ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন।
অপহরণের শিকার ইসমাইল হোসেন সিরাজী টাঙ্গাইল থেকে পরিচালিত এসডিএস নামে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী (এনজিও) প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। ময়নসিংহের ভালুকায় সাফা ডেইরী ইন্ডাস্ট্রিজ, সাফা সাইকেল ফ্যাক্টরি, সাফা ঢেউটিন ও সাফা স্টিল মিলস লিমিটেডের কর্ণধার ছিলেন। সম্প্রতি তার ফ্যাক্টরিগুলো ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য জটিলতায় তিনি এখন এগুলোর মালিক নন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। তবে টাঙ্গাইলে এসডিএস এনজিও’র প্রায় ৪ একর জমি নিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের মজিবুর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়। মজিবুর রহমানের সঙ্গে টাঙ্গাইলের বাসাইলের এসপি পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে খুলনায় কর্মরত। তার মাধ্যমেই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে রুবাইয়া গুলশান অভিযোগ করেছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ী এলাকায় ডেইরী ফার্ম প্রজেক্টের ৪শ’ বিঘা জমি রয়েছে। এই জমিও একটি চক্র দখলের চেষ্টা করছে। ঐ চক্রটিও তার স্বামীকে অপহরণ করতে পারে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, লালমাটিয়ার এফ ব্লকে বসবাসরত এই শিল্পপতি সোমবার সন্ধ্যায় রিকশায় করে তার ছেলেকে দন্ত বিশেষজ্ঞকে দেখানোর জন্য ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডে যান। ঐ ভবন থেকে বের হয়ে সামনে একটি মাইক্রোবাস দেখতে পান। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে এক ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়িতে উঠতে বলেন। এরই মধ্যে পিছন থেকে দুজন ব্যক্তি তাদের জোর করে মাইক্রোবাসে উঠান।
ইমামুল মুরসালিন উদয় জানান, মাইক্রোবাসের ভিতরে ৩/৪ জন ব্যক্তির হাতে শটগান দেখতে পান। তাদের একজন তাকে বলেন, ‘জায়গা জমি নিয়ে যেন ঘাটাঘাটি না করি। মাকে সাবধান হতে হবে। তা না হলে তোমার বাবাকে আর ফেরত পাবে না।’ পরে তাকে আসাদগেটে নামিয়ে দেয়া হয়।
জিডির তদন্ত কর্মকর্ত এসআই শফিউল আলম বলেন, ঘটনাস্থল তদন্ত করে সেখান থেকে কোনো সিসি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। ঐ ভবনের পাশের একটি ভবনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। ঐ ভিডিও ফুটেজে কিংস বেকারীর সামনের দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে জিডির বাদী এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে কয়েকজনের নাম বলেছেন। সেখানে মজিবুর রহমানসহ একজন পুলিশ কর্মকর্তার নামও রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। সব থানায় জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু