কালীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ৬ মাস পর মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৯) নামের এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের (বারারী বাড়ি) একটি সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। কঙ্কাল উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত।
জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহাদুরসাদী গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে সাখাওয়াত বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে বের হয়। রাতে আর বাড়ি ফিরেনি। তার তিনটি মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে পরিবারের লোকজন তা বন্ধ পান। স্ত্রী আয়েশা আক্তার ঘটনার দুই দিন পর কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের গাধাইয়া গ্রাম থেকে সাখাওয়াতের মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করেন। গতকাল কঙ্কাল উদ্ধারের পর জিজ্ঞেসাবাদের জন্য প্রতিবেশী হুমায়ূনের বাবা আলী আফছার, মা হেলেনা বেগম, মামা ইসমাইল, মামী রহিমা বেগম ও প্রতিবেশী মোশারফের স্ত্রী লুত্ফুন্নাহারকে পুলিশ আটক করেছে।
জানা গেছে, বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামটি জুয়া এবং মাদকের জন্য সমালোচিত। অভিযোগ আছে- পুলিশকে ম্যানেজ করে ওই গ্রামের বিভিন্ন টেকে (টিলা) প্রতিদিন চলে জুয়ার আসর। সাখাওয়াতও তার মোটর সাইকেলে মাদক আনা-নেওয়ার কাজ করত। সে ছিল উপজেলা ও বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মাদক চক্রের মূলহোতা মাসুমের সহযোগী। স্থানীয়দের ধারণা মাদকের কারণেই সাখাওয়াত খুন হতে পারে।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত বলেন, সাখাওয়াত খুনের কারণ এখনো জানা জায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিষয়ে শুনেছি। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু