তীব্র যানজটে স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

 
ভয়াবহ যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক। সোমবার দিবাগত রাত থেকে এ যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
 
হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার প্রবেশদ্বার চন্দ্র-নবীনগর-ঢাকা রোড ও চন্দ্রা-গাজীপুর রোডে যানবাহন ঢুকতে না পারায় যানজটের অন্যতম কারণ।
 
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। আস্তে আস্তে যানজট বাড়তে থাকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান জানান, রাতে মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়। রাত যতই গভীর হতে থাকে যানজটও তীব্র আকার ধারন করে। ভোর রাতে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর, ও চন্দ্রা এলাকায় পর পর কয়েকটি মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট শুরু হয়। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে বিকল হওয়া ট্রাকগুলো সরানোর চেষ্টা করে। আবার মহাসড়কের কালিয়াকৈর রেলওয়ে ওভারব্রিজের উপর ট্রাক ও বাস বিকল হয়ে পরায় যানজট আরো তীব্র হতে থাকে।
 
এই যানজটের ফলে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের নাটিয়াপাড়া ও ডুবাইল বাইপাস পর্যন্ত এই ৫০ কি. মি. এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কিছু কিছু যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক।
 
কয়েকজন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজ। চার লেনের কাজ করার জন্য মীর আক্তার হোসেন জেবি ও আব্দুল মোনায়েম কোম্পানি কাজ শুরু করেন ২০১৫ সালে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের নজরধারী না থাকায় এবং মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইত্তেফাক/এএম