‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে নীলদলে বিদ্রোহী প্যানেল’

 
আগামী ২২ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল দুটি প্যানেলের নাম জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকরা।
 
গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক নাজমা শাহীন একটি প্যানেল জমা দেন। আরেকটি প্যানেল জমা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে। দুই পক্ষই আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীলদলের ব্যানারে রাজনীতি করছে। 
 
এদিকে নব্য আবির্ভূত নীলদলের স্বতন্ত্র প্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছে নীলদলের মূল প্যানেলের শিক্ষকরা। রবিবার নীলদলের মূল প্যানেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীনের নেতৃত্বে ৩৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করে। ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র প্যানেলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেওয়া হয়।
 
অভিযোগ-পত্রে বলা হয়, ‘নীলদলের প্রার্থী ব্যতিরেকে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নীলকাগজ ব্যবহার করতে পারবে না। এই প্যানেলের সাথে নীলদলের কোন রকম সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার কৌশল স্বরূপ নব্য এই স্বতন্ত্র প্যানেলের আবির্ভাব ঘটেছে। যারা নিজেদেরকে নীলদল বলে দাবি করছে।’
 
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নীল দল একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি হিসেবে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এ দলের ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘ দিন নীলদলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কর্মক- প্রচার-প্রচারণায় নীল কাগজ ব্যবহার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন সিনেট নির্বাচনেও নীল কাগজে তারা প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু কতিপয় শিক্ষক এ নির্বাচনে স্বঘোষিত প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রচার-প্রচারণায় নীলকাগজ ব্যবহার করে আমাদের ঐতিহ্যগত গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যা আমাদের নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।’
 
তবে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে স্বতন্ত্রদলের প্রার্থী অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘নীল দল কোনভাবে নিবন্ধিত না। শিক্ষকরা সংঘবদ্ধভাবে এই প্রথা মেনে আসছে। তাই এই ধরনের অভিযোগ করার অধিকার তাদের নেই।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীল দলের মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘নীলদল ১৯৭৪ সাল থেকে নীল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আসছে। নতুন করে যারা নীলদলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্যানলে নির্বাচন করছে তারা নিল প্রতীক ব্যবহার করতে পারে না। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করেছি। ’
 
তিনি আরো বলেন, ‘নীলদলের আহ্বায়ক আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন। নীলদলে আমরা নির্বাচন করছি, অন্যরা স্বতন্ত্র।’
 
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. শহীদ আখতার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কি কারণে তারা বিদ্রোহী হলো আমাদের কারো বোধগম্য নয়। নতুন কনভেনর না আসা পর্যন্ত পুরাতনরা চালিয়ে যাবে এটাই নিয়ম। কোন কারণে যদি বনিবনা না হয় তবে আলাদা প্যানেল দিতে হবে তার কোন মানে হয় না। সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কি করে নতুন দল তৈরি করে?’
 
তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি কতগুলো পদ নিতে পারেন ?  তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি, ডিন, প্রোভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, বিসিএস গভর্নিং বডির মেম্বারসহ আরো অনেক পদে রয়েছেন। 
 
গত ৮ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অঘটন ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে নীলদলে বিদ্রোহী প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। কোন বিশেষ মহল এই কাজ করছে। স্বাধীনতার পরে নীল দলে অনেক উত্থান পতন হয়েছে। নীলদল থেকে অনেকে বেরিয়ে গেছেন তবে নীলদল দুইটি হয়নি। আমরাই অরিজিনাল, আমরাই নীল দল।’
 
একই অভিমত ব্যক্ত করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, ‘অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীনের নেতৃত্বের প্যানেলই নীলদলের মূল প্যানেল। গত ৮ বছর যাবত বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কোন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বভাবিক কার্যক্রমকে ব্যহত করতে একটি বিশেষ মহল নীলদলে বিদ্রোহী প্যানেল সৃষ্টি করেছে।’
 
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এদিকে নিজেদের মধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেছে বিএনপি জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আমাদের পূর্ণ প্যানেলের নাম জমা দিয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে এটি তৈরি হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর