বিশ্বের ১৫০টি দেশে গত শুক্রবার একযোগে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। ‘ওয়ানাক্রাই’সহ বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়া র্যানসামওয়্যার জাতীয় ভাইরাস দ্বারা স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চীনসহ বিশ্বের ১শ’টি দেশের দু’লাখের বেশি কম্পিউটারে আক্রমণ করতে সফল হয় হ্যাকাররা। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে দায়ী কারা, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই দিতে পারছেনা প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষকের সন্দেহের তীর যাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার দিকে। আবার কেউ কেউ বলছেন অত্যন্ত আধুনিক এক গোষ্ঠী ‘লেজারাস গ্রুপের’ নাম। এর আগে, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সের ওয়েবসাইট হ্যাক ও ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পেছনে এই সাইবার আক্রমণকারী গ্রুপটিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে লেজারাস গ্রুপের কার্যক্রম কোথা থেকে পরিচালিত হয় সে সম্বন্ধে অন্ধকারে রয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো।
IMG0
যদিও বিশ্বব্যাপী বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, চীনের বাইরে থেকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করে লেজারাস গ্রুপ। গুগলের নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিল মেহতার এক অনুসন্ধানের পর সর্বশেষ আক্রমণের জন্য লেজারাস গ্রুপটিকেই দায়ী করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সাইবার হামলায় ব্যবহৃত ওয়ানাক্রাই এর কোডের সঙ্গে লেজারাসের অতীত আক্রমণের কোডের অনেকটাই মিল পেয়েছেন নিল মেহতা।
অপর এক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এলান উডওয়ার্ড জানিয়েছেন, এ আক্রমণে ব্যবহৃত কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এগুলো চীনের টাইম জোনকে সমর্থন করে। যদিও এ আক্রমণের সঠিক ঠিকানা বের করা অনেক গবেষণার বিষয়।
IMG1
এছাড়া রাশিয়ান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিল মেহতার অনুসন্ধানে ওয়ানাক্রাই এর মতো র্যানসামওয়ার ভাইরাসগুলো ছড়িয়ে পড়ার সময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। তারপরও এর সর্বশেষ তথ্য পেতে হলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই কাজে নেমে পড়তে হবে।
ক্যাসপারস্কি আরো জানিয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটা লেজারাস গ্রুপের কাজ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক করার সঙ্গে এই গ্রুপের অনেক লিংক পাওয়া গিয়েছিলো।
IMG2
তবে এর আগেও, সনি পিকচার্সের তথ্য চুরির দায়ে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের দায়ী করেছিলো মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যদিও উত্তর কোরিয়া বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু