গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে দেয়া সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেই আস্থা রাখছেন শিন ক্যারল। ঐ নিরাপত্তার চাইতে বাড়তি কিছু চাওয়ার নেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) এই নিরাপত্তা পরামর্শকের। বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য দুদিনের সফরে ঢাকায় এসে এমন মনোভাব দেখিয়েছেন ক্যারল।
আজ মঙ্গলবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। সিরিজটি নিশ্চিত করার আগে নিরাপত্তা বিষয়ে রুটিন পর্যবেক্ষণে এসে আজ সকালে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ক্যারল। পরে দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্যারলকে আশ্বস্ত করেছেন, চাইলে ইংল্যান্ড দলকে দেয়া নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হবে অজি ক্রিকেট দলকে। তবে বাড়তি নিরাপত্তা চাননি ক্যারল। সিরিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এসে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবই দেখালেন ক্যারল, ‘আমরা বাংলাদেশ ও বিসিবির সঙ্গে কাজ করার কথা ভাবছি। আগস্টে যেন সিরিজটি সফলভাবে হতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি। অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সঙ্গেও বৈঠক করেছি। এর আগে ইংল্যান্ড দলকে যে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল, সেটা দেখে আমি খুবই সন্তুষ্ট। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিশ্চিত হতে আমি এখানে এসেছি। বাংলাদেশ আমাদের একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেবে।’
পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরীও। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে যে নিরাপত্তা দিয়েছিলাম অস্ট্রেলিয়াকেও একই নিরাপত্তা দেয়া হবে। আমরা আইজিপি মহোদয়ের সঙ্গে বসেছিলাম। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এর বাইরেও যদি বাড়তি কিছু দিতে হয়, সেটিও তারা দিবেন। আমরা আশাবাদী। আমরা যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়েছি তাতে তারা খুবই খুশি। সিএর প্রতিনিধি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধাগুলো দেখতে সশরীরে এসেছেন। তারা বাড়তি কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও চাননি। মূলত এখানে এসেছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা দেখতেই।’
আগামীকাল প্রথম টেস্টের ভেন্যু মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করতে পারেন ক্যারল। একইদিন গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার। আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে যাবেন ক্যারল।
নিজামউদ্দিন চৌধুরী আরও জানান, ‘জুলাইয়ের শুরুর দিকে সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা দেখতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদল আবারো বাংলাদেশ সফর করবে। ক্যারলের সঙ্গে থাকবেন ক্রিকেটের অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।’
গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড দলকে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা দিয়েছিল বাংলাদেশ। সরেজমিনে তা দেখে গিয়েছিলেন ক্যারল। সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সেসময় সন্তুষ্টি করেছিল তার কণ্ঠে। সন্তুষ্টির সূত্রেই ২০১৫ সালে স্থগিত হওয়া দুই টেস্টের সিরিজটি খেলতে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আসার কথা অজিদের।
তার আগে ‘রুটিন শিডিউল’ হিসেবে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে বাংলাদেশে আসছেন সিএ’র এই প্রতিনিধি। তার সর্বশেষ রিপোর্টের ওপরই সিরিজের গতি বেগ পাবে। সবঠিক থাকলে সফরের সূচিও নির্ধারণ হয়ে যাবে দ্রুতই। বিসিবি জানিয়েছে, কোরবানি ঈদের আগে প্রথম টেস্ট ও দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে ঈদের পরে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিসিবির প্রস্তাবিত সূচিও এটি। গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড সিরিজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক হয় সিএ। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা