বগুড়ায় জাসদ নেতার ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে হত্যার মোটিভ হিসেবে যে স্কুলকে কেন্দ্র করে মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারার সাথে মাসুকের পিতার কোন্দলের কারণ বলা হচ্ছে -সেই স্কুলটিই চলছে অনুমোদন ছাড়া। আর এই স্কুলকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই জাসদ নেতা এমদাদের ছেলে স্কুল ছাত্র মাসুককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে ।
আর স্কুল ছাত্র মাসুক ফেরদৌস মাসুক খুন হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম মিতুর বাবা মাহবুব হামিদ তারাকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মাসুকের বাবা জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাড. এমদাদুল হক এমদাদ বাদী হয়ে মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ তারা ও চাচা পৌর কাউন্সিলর মেজবা উল হামিদ সহ মোট১৬ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত শনিবার (১৩ মে) বগুড়া শহরের মাটিডালি হাজীপাড়ায় নিজ বাড়ির দেড়’শ গজ দূরে বেলাল হোসেন নামে এক প্রতিবেশী বাসার মধ্যে খুন করা হয় এসওএস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌস মাসুক কে। খুনের ঘটনার প্রায় ৭২ ঘন্টা পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলো।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, শহরের এমপিওভুক্ত মাটিডালি উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠ দেওয়া হত তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। বছর ৫ আগে মাহবুব হামিদ তারা সেখানে পঞ্চম থেকে দশম এবং মুশফিকের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ণালী বিদ্যায়তন নাম দিয়ে কেজি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করেন। একই ক্যাম্পাস, একই ভবন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ব্যবহার করেও সেখানে আলাদা নাম দিয়ে, আলাদা ব্যাংক হিসাব খুলে বর্ণালী বিদ্যায়তন চালান মুশফিকুরের বাবা মাহবুব হামিদ তারা। এই বিদ্যালয় নিয়ে মাহবুব হামিদের সঙ্গে বিরোধে জড়ান ওই এলাকার জাসদনেতা আইনজীবী ইমদাদুল হক।এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে ইমদাদুলের ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে (১৬) পিটিয়ে আহত করার পর তার মৃত্যু হয়।
ইমদাদুল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ব্যবহার করে, সব নিয়ম-কানুন ভেঙে মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ এখানে একটি প্রাইভেট বিদ্যালয় চালু করে অর্থ উপার্জন করেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে আমি প্রতিবাদ করার কয়েক দিন পরেই মাসুককে খুন করা হয়। আমার ছেলে খুনে মুশফিকুর রহিমের বাবা দায়ী।
মাটিডালি এলাকার আরেক আইনজীবী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, মাহবুব হামিদ প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুশফিকের পিতা মাহবুব হামিদ তারা বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, আমাদের তালিকায় বর্ণালী বিদ্যায়তন নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি নেই।
একই ক্যাম্পাসে দুটি নামে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা করলেও তা একই নামে হতে হবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র বলছেন, মাটিডালি উচ্চবিদ্যালয়ের ভেতরে বর্ণালী বিদ্যায়তন নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা তার জানা ছিল না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা । অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার এটা না জানার কথা না। আমি তাকে ব্যবস্থা নিতে বলব।
ইত্তেফাক/রেজা