খুলনার নির্মাণাধীন রেল স্টেশনের ছাদে ফাটল: ব্যবস্থা নিতে রেলমন্ত্রী নির্দেশ

 
খুলনায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের ছাদে ফাটলের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এ বিষয়ে তিনি একটি প্রতিবেদনও দাখিল করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। খুলনাবাসীর বহুপ্রতীক্ষিত স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষের আগেই ফাটলে নির্মাণ কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
 
এদিকে, ফাটল দেখতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রেল প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি। পরিদর্শন শেষে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি রেলমন্ত্রীকে অবহিত করেন। সরেজমিন দেখা যায়, খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন প্রকল্পের মূল স্টেশন ভবন এবং তিনটি প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ চলছে।
 
স্টেশন ভবনের কাজ প্রায় শেষের পথে থাকলেও প্লাটফর্মগুলোর কাজ বেশ বাকি। তবে ২ ও ৩ নম্বর প্লাটফর্মের ছাদের ৭শ’ থেকে ৮শ’ ফুট করে ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মূল স্টেশন ভবন থেকে দুই নম্বর প্লাটফর্মের দিকে কয়েকফুট এগোতেই কয়েকটি অংশে চোখে পড়ে পাঁচটি ফাটল। এর মধ্যে ডান দিকে তিনটি এবং বাম দিকে ২টি। যদিও ফাটলগুলোর ওপর প্লাস্টার করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবুও স্পষ্ট হয়ে রয়েছে চিহ্নগুলো।
 
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে রেল মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, বিষয়টি তিনি রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি শুনে রেলমন্ত্রী সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পরিদর্শনকালে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশারফ হোসেন, রেলওয়ে ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 
উল্লেখ্য, খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে গত বছরের অক্টোবরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিদাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে চার কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নতুন রেল স্টেশনটি হচ্ছে তিনতলা বিশিষ্ট। প্রথম তলায় স্টেশন ভবনে থাকছে ৬টি টিকেট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম।
 
দ্বিতীয় তলায় স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, তফসিলি ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্ট ফুডের দোকান এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় রেলওয়ের প্রকৌশলীদের কক্ষ। স্টেশন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে একসাথে ৬টি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। ফলে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে।
 
ইত্তেফাক/জামান