রণাঙ্গনের যোদ্ধা ইয়াকুব আলীর নাম ওঠেনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়

ইয়াকুব আলী (৭০) জীবনবাজি রেখে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছরেও তাঁর নাম ওঠেনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়। তিনি উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে।

জানা যায়, মুিক্তযুদ্ধকালে ইয়াকুব আলী বাংলাদেশ আনছারের সদস্য থাকাকালীন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি বর্তমান আমলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চাঁদ আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করেন। তাঁর সহযোদ্ধারা ছিলেন,তাঁর গ্রামেরই গনী, সাদেক, আরজুল,ছাত্তার ও আকছেদ প্রমুখ। সহযোদ্ধাদের মধ্যে বেশিরভাগজনই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পেলেও ইয়াকুব আলীর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই।

এখন তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ মহান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিরন্তর ছুটে চলেছেন। একই সঙ্গে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে এ প্রতিনিধিকে জানান, জীবন সাহাহ্নে এসে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর আগে স্বীকৃতি পাবো তো?

মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াকুব আলী আনছার সদস্য হিসাবে তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর সহযোগী হিসাবে প্রথমে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন এবং পরবর্তীতে মিরপুর থানা পুলিশের রিজার্ভফোর্স সদস্য ছিলেন। সে সময় স্বাধীনতাযুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে, ইয়াকুব আলী ভারতের করিমপুরে ইউথক্যাম্পে রাইফেল, ষ্টেনগান, এসএলআর ও গ্রেনেড চালানোর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন ও মিরপুরের নওদাপাড়ায় সংঘটিত প্রতিরোধ যুদ্ধে সশস্ত্র অংশ নেন।

রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষে তিনি বীরের বেশে তাঁর কাছে রক্ষিত অস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন। জমাদানকৃত অস্ত্রের নং ২১৫৭।

এ বিষয়ে সাবেক মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খাঁন বলেন, ইয়াকুব আলী সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা যাচাইবাছাইকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যথাযথ সময়ে তাঁর কাছে রক্ষিত যুদ্ধকালীন সময়ের কাগজপত্রাদী জমা দিতে না পারায় তিনি ট্রেন মিস করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু