রায়পুরে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিপদে কৃষক

রায়পুর উপজেলার পাঁচটি চরের বোরো ধান তোলা প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। অসময়ে টানা ঝড়-বৃষ্টিসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেয় এ উপজেলায়। তাই কৃষকরা এবার বোরো’র বাম্পার ফসল হলেও শেষ সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানের নায্যমূল্য না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অনেক কৃষক বোরো চাষ করে ঋণের টাকার চিন্তায় ধান নিয়ে বিপদে পড়েছেন। এ বছর সরকারিভাবে ১২শ টাকার নিচে ধান ক্রয় করলে কৃষকের কিছুই থাকবে না বলে দাবি করেন তারা।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলাসহ চারটি ইউনিয়নের পাঁচটি চরে বোরো ধান চাষ বেশি হয়। বিশেষ করে মেঘনা নদীর জেগে ওঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া ও কানিবগার চরে। এবার উপজেলার পাঁচটি চরসহ ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার টন। সরকারিভাবে এখনও ধান কেনা শুরু হয়নি। তাই আড়তদাররা কৃষকের কাছ থেকে ৬শ থেকে ৬৫০ টাকা দরে ধান কিনে মজুদ করছেন। পরে এ ধান তারা বেশি দামে গুদামে বিক্রি করবেন। দ্রুত সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় নায্যমূল্য না দিলে বোরো চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক।

চরকাছিয়ার বর্গাচাষি সিরাজ মিয়া বলেন, এক কানি জমি বর্গা এনে চাষাবাদ করেছি। ধার দেনা করে বোরো আবাদের খরচ জুগিয়েছিলাম। ধান ঘরে তোলার সময় টানা ঝড়-বৃষ্টি থাকায় জমির মালিক ও পাওনাদারকে ধান দিয়ে খুব একটা লাভ হয়নি।

রায়পুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত হলেই কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু হবে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করবে সে দামেই ধান কেনা হবে। এতে কৃষক ধানের নায্যমূল্য না পেলেও আমাদের কিছু করার নেই।

ইত্তেফাক/নূহু