আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নৌপরিবহন খাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তার লাভ করেছে। তিনি বলেন, নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বিগত ১০ বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে এ খাতের বিস্তৃতি দিন দিন বাড়ছে। নৌপরিবহন শুধু অভ্যন্তরীণ খাতেই নয় আন্তর্জাতিক খাতেও এর যোগাযোগ বাড়ছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সালাম শিপিং লাইন্স লিমিটেডের বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এম ভি মানামী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহ আলম মুরাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলা নাথ দে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. শাহদৎ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ (যাত্রী পরিবহন) চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডোর এম মাহবুব ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) পরিচালক মোহাম্মদ আবু জাফর হাওলাদার। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন সালাম শিপিং লাইন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম।
নৌপথে যাত্রী সেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলের জন্য আজ উদ্বোধন করা হয়েছে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এম.ভি. মানামী’। ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রাত ৯:৫৫ মিনিটে ‘এম.ভি. মানামী’ জাহাজটি চলাচল করবে। এতে রয়েছে বিলাস বহুল ভিআইপি ডুপ্লেক্স ও ডাবল ৪টি কেবিন, সেমি ভিআইপি ৩টি, ফ্যামেলী ৩টি কেবিন। এছাড়া ডাবল ও সিঙ্গেল কেবিন রয়েছে ১৪৪ টি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর ফিতা কেটে লঞ্চটি উদ্বোধনের পর পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পরে মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাত্রীবাহী লঞ্চটির যাত্রাকে স্বাগতম জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, সবসময় আইন মেনে চলতে হবে, যাতে মানুষের জানমালে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সিগনাল মেনে চলাতে হবে লঞ্চ চালকদের। এ সময় মালিকদেরও এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এই লঞ্চটির যাত্রা যেন অব্যাহত থাকার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: শিল্পায়নের ফলে কৃষি জমির যেন ক্ষতি না হয় : প্রধানমন্ত্রী
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ভোলা নাথ দে বলেন, নদী উত্তাল থাকলে ২ নম্বর সিনালের সময় লঞ্চ ও নৌযানের গতিপথ পরিবর্তন করে ধীরে চালাতে হবে এবং সিগনাল ৩ থাকলে লঞ্চ চালনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রিমোর্ট কন্ট্রোল বিশিষ্ট বিলাসবহুল এমভি মানামী লঞ্চটিতে যাত্রী সাধারণের জন্য থাকবে ওয়াইফাই সুবিধা। এছাড়া এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- অসুস্থ যাত্রীর জন্য প্রয়োজনে আইসিসিইউ কেবিনের ব্যবস্থা। লঞ্চটির কারিগরি দিকের উল্লেখযোগ্য হলো- ২ হাজার সাতশ হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন। এছাড়া সামগ্রীক তদারকির জন্য চারপাশে লাগানো হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। লঞ্চটির বিশেষ দিক সম্পর্কে পরিচালক বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্চ করে লঞ্চ ও যাত্রীর অবস্থান নির্ধারণ করা যাবে। লঞ্চটি পরিচালনায় থাকবে দুইজন প্রথম শ্রেণির সুকানি, দুইজন মস্টার, চারজন গ্রিজার।
ইত্তেফাক/এমআই