মা হ মু দু ল আ মি ন
ঈদ আসতে এখনো বেশ বাকি। কিন্তু এরমধ্যে শুরু হয়েছে ঈদকে ঘিরে নাটক নির্মাণের কাজ। নেপালে গিয়ে টানা দুই সপ্তাহে দুটি সাত পর্বের ধারাবাহিক ও দুটি খণ্ড নাটকের কাজ করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। নাটকগুলোর রচয়িতা বৃন্দাবন দাস। সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটকদুটির নাম হলো ‘লেকুর এভারেস্ট জয়’ ও ‘২৫/২ কাঠমান্ডু ভ্যালি’। নাটকগুলোয় তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন শাহানাজ খুশী, প্রাণ রায়, অপর্ণা, নাবিলাসহ আরো অনেকে। নাটকগুলো নির্মাণ করছেন সকাল আহমেদ। চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘সকাল আহমেদের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন যাবতই কাজ করছি। তিনি সবসময়ই অনেক যত্ন নিয়ে কাজ করেন। যে কারণে তার নাটকে কাজ করে বেশ সাড়া পাওয়া যায়। আর এই নাটকগুলোর রচয়িতা বৃন্দাবন দাদা। তার নাটকের আলাদা দর্শক তৈরি হয়েছে। যারা দাদার রচিত নাটক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। আমার বিশ্বাস, এ নাটকগুলোও দর্শকদের কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।’ গেল বছর ৮ জুলাই অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন চঞ্চল চৌধুরী। প্রশ্ন রাখি, আপনাকে সিনেমায় খুব কম দেখা যায় কেন? জবাবে চঞ্চল বলেন, ‘যেসব সিনেমায় কাজ করেছি, সেসব সিনেমা দেখে আমাকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে একধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দর্শকদের ভাবনাটা এমন যে, আমি সিনেমা করা মানেই ভিন্ন কিছু। যা পরিবারের সবাই মিলে হলে গিয়ে দেখা সম্ভব। দর্শকদের প্রত্যাশা আমাকে ঘিরে এতটাই বেশি যে, আমি চাইলেই যেকোনো সিনেমায় অভিনয় করতে পারি না। প্রতি সপ্তাহেই সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব আসে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আমার ভালো না লাগলে তা আমি করি না। যে কারণে ব্যাটে বলে যখন মিলে যায়, তখনই সিনেমায় অভিনয় করি। দর্শকের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়েই সিনেমায় কাজ করতে চাই।’ চঞ্চল চৌধুরীকে গত বছর অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। সমসাময়িক অনেক তারকা অভিনেতাই নাটক নির্দেশনায় আসছেন। আপনার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ আছে কি? চঞ্চল বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্দেশনা দেওয়া অনেক কঠিন একটি কাজ। আমি যে নির্দেশনা দিতে পারব না, তা নয়। কিন্তু একসঙ্গে আমি যদি নির্দেশনাও দিই, অভিনয়ও করি তবে আমার অভিনয় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যতদিন অভিনয়টাই করে যাওয়ার সুযোগ আছে, ততোদিন অভিনয়টাই মন দিয়ে করে যেতে চাই। নির্দেশনা দেওয়ার সময় তো আছেই। আরেকটি কথা না বললেই নয়, আমাদের মিডিয়াতে কিছু ফেক প্রযোজক, নির্মাতা, অভিনেতা প্রবেশ করেছে। এদের কাছ থেকে অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে।’ চঞ্চল চৌধুরী প্রথম গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এবং দ্বিতীয়বার অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।