ভূমিমন্ত্রীর বাড়ি থেকে পুত্র গ্রেফতার

 
পাবনার ইশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তমাল শরিফ ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এর পুত্র। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
 
এরমধ্যে তমালকে গ্রেফতার করা হয় মন্ত্রীর শহরের বাড়ি থেকে। একই সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাকে পায়নি। পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
গ্রেফতারকৃতদের রাতেই পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরিফ তমাল, যুবলীগ কর্মী রূপক, জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল, রনি, প্রিন্স ইসলাম, মাহবুব ইসলাম, সাবিরুল, মেহেদী হাসান, সামসুল ও মাসুম।
 
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারে ফুড জংশন ও লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডার নামের দুইটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
 
এরপর শহরের কলেজ রোডে মুক্তিযোদ্ধা আজমল হক বিশ্বাসের ছেলে যুবলীগের সাবেক নেতা আরিফুল হাসান বিশ্বাস ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের শহীদ আমিনপাড়ার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বাড়িতে হামলার ঘটনায় যুবায়ের বিশ্বাসের পিতা আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে যুবলীগ সভাপতি তমাল শরিফসহ ৩২ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এই মামলার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযান শুরু হয়।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পাবনায় আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকার সমর্থক আরিফকে একই কাজে যাওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের কর্মীরা মারধর করে।
 
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক গ্রুপের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দুপুরে শহরের শহীদ আমিনপাড়ায় অবস্থিত যুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলায় যুবায়েরের মা আহত হন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থিত ফুড জংসন ও লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ দুটি দোকান পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর ক্রয়কৃত জায়গায় অবস্থিত। যুবায়ের এক সময় মিন্টুর নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। একই সমমনা  আওয়ামীলীগ নেতা আরিফ বিশ্বাসের পৌর সুপার মার্কেটে অবস্থিত দোকান ও কলেজ রোডে অবস্থিত তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি মটর সাইকেলে আসলেও এদের অনেকের মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা ছিল।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর