তা হ মি না মি লি
আগামী সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে হলিউডের ডার্ক ফ্যান্টাসি সুপারহিরো সিনেমা ‘হেলবয়’। ডার্ক হর্স কমিকস-এর হেলবয় চরিত্রকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে। এর আগে ‘হেলবয়’ সিরিজের দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এবারেরটি সিরিজের তৃতীয় সিনেমা। কমিক বই ‘ডার্কনেস কলস’, ‘দ্য ওয়াইল্ড হান্ট’ ও ‘দ্য স্ট্রম অ্যান্ড দ্য ফারি’ অবলম্বনে ‘হেলবয়’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। ‘হেলবয়’ সিনেমায় ব্লাড কুইন নিমুসি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী, মডেল ও গায়িকা মিলা জোভোভিচ। সিনেমায় ব্লাড কুইনের চরিত্রটি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী মিলা জোভোভিচ বলেন, ‘হেলবয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা নিমুয়ি চরিত্রটি মূলত আন্ডারওয়ার্ল্ডের রানির, যে সকল দানবের মা হলেও পৃথিবীটাকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সৌহাদ্যপূর্ণ রাখতে সদা সচেষ্ট। চরিত্রটিকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে আন্তরিক ও সিরিয়াস ছিলাম।’ ৪৩ বছর বয়সী মিলা জোভোভিচের জন্ম তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়েনের কিয়েডে। একাধারে অভিনেত্রী, মডেল ও সংগীতশিল্পী হিসেবে তার খ্যাতি ও পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়াজুড়ে। ২০০৪ সালে বিশ্ববিখ্যাত ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ম্যালা সায়েন্স ফিকশন ও অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় তার উজ্জ্বল উপস্থিতি সবার চোখে পড়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম হলেও মিলা বাবা-মায়ের সঙ্গে পাঁচ বছর বয়সে লন্ডন পাড়ি জমান। তারপর তারা আমেরিকায় গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা গড়েন। লস অ্যাঞ্জেলসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মাত্র বারো বছর বয়স থেকে মডেলিং শুরু করেন। সেই সময় রেভলন তাকে বিজ্ঞাপনের অঙ্গনে ‘মোস্ট আনফরগেটবল ওম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে। পর্দালোকে তার অভিষেক টেলিভিশন ফিল্ম ‘দ্য নাইট ট্রেন টু কাঠমান্ডু’র মাধ্যমে। বড় পর্দায় প্রথম অভিনয় করেন ‘টু মুন জাংশন’ সিনেমায়। তবে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেন ১৯৯১ সালে ‘রিটার্ন অব দ্য ব্লু লেগুন’ সিনেমার সুবাদে। রোমান্টিক সিনেমাটিতে মিলা যখন অভিনয় করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র পনের। ১৯৯৭ সালে ফরাসি সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘দ্য ফিফথ এলিমেন্ট’-এ অভিনয় করে আরও বেশি এগিয়ে যান শোবিজে। সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে এর পরিচালক লুক রেসনের সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন এই সুন্দরী। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করেন। তবে খুব শিগগিরই তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে পরিচালক লুক রেসনের আলোচিত সিনেমা ‘দ্য মেসেঞ্জার :দ্য স্টোরি অব জোয়ান অব আর্ক’-এ নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন মিলা। ২০০২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছরে মিলা জোভোভিচ বহুল আলোচিত সায়েন্স ফিকশন হরর সিনেমা ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর বিভিন্ন খণ্ডে অ্যালিস চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যা তাকে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন মিলা। ১৯৯৪ সালে তার ডেব্যু অ্যালবাম ‘দ্য ডিভাইন কমেডি’ প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮-এ বেরোয় ‘দ্য পিপল ট্রি সিজনস’। মিলা জোভোভিচ গাইতে ভালোবাসেন। তিনি সবসময় নিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার গাওয়া নতুন নতুন গান আপলোড করেন। বিখ্যাত মডেল কারম্যান হকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘জোভোভিচ-হক’ পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন মিলা। তার নিজের একটি প্রোডাকশন কোম্পানি আছে, নাম ক্রিয়েচার এন্টারটেইনমেন্ট। দুই সন্তানের জননী মিলা জোভোভিচ অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘চ্যাপলিন’, ‘জুল্যান্ডার’, ‘ইয়া স্টুপিড ম্যান’, ‘সারভাইভার’, ‘ফিউচার ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য রুকিজ’ প্রভৃতি। গত জানুয়ারিতে তার অভিনীত আমেরিকান-স্প্যানিশ, ফ্যান্টাসি ড্রামা সিনেমা ‘প্যারাডাইস হিল’ মুক্তি পেয়েছে। সানডেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। আগামী বছর মিলা জোভোভিচ অভিনীত ফ্যান্টাসি অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘মনস্টার হান্টার’ মুক্তি পাবে। যেখানে তাকে জাতিসংঘের মিলিটারি টিমের সদস্য ক্যাপ্টেন নাটালি আর্টেমিস চরিত্রে দেখা যাবে।