নওগাঁর বদলগাছীতে থানা পুলিশের নিয়মিত গাড়ি চেকিংয়ের অপরাধে (!) থানায় হামলা করেছে যুবলীগ নেতা। রোড চেকিংয়ের সময় কর্তব্যরত এস.আই ও অন্য পুলিশ জানায়, গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলার চাকরাইল গ্রামের নিকট বদলগাছী থানা পুলিশের নিয়মিত গাড়ী চেকিং চলছিল। সে সময় মিলন হোসেন নামে একজনের মোটর সাইকেল দাঁড় করিয়ে কাগজ পত্র চাইলে সে কোন কাগজ পত্র না দেখিয়ে পুলিশকে ধমক দিয়ে কথা বলে। এ সময় কর্তব্যরত এস.আই আখতারুজ্জামান এর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
এরপর মিলন সেখান থেকে সটকে পড়ে গ্রামের লোকজন নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে থানায় ফিরে আসে।
মিলন উপজেলার যুবলীগ ক্রীড়া সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উপজেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেনের জামাই। সে চাকরাইল গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে।
ওই ঘটনার কিছু সময় পর সন্ধ্যায় উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা আনোয়ার হোসেন তার জামাই মিলনসহ কয়েকজন ৪/৫ টি মোটর সাইকেল নিয়ে থানায় প্রবেশ করে। তারা মোটর সাইকেলের চেইন ও রড নিয়ে অতর্কিতে থানার গোলচত্বরে অবস্থানরত নিরস্ত্র ৬/৭ জন পুলিশকে আক্রমণ করে এলাপাতাড়ী মারপিট করতে থাকে।
এ সময় পুলিশের চিৎকারে থানা ব্যারাকে অবস্থানরত পুলিশেরা নিচে নেমে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। তারা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মিলন হোসেনকে একটি মোটর সাইকেলের রড সহ আটক করলে অন্যরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৩ জন এস.আই, এ.এস.আই সহ ৭ জন পুলিশ আহত হয়েছে। তারা বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন এস.আই আখতারুজ্জামান, নিপেন্দ্র নাথ, এ.এস আই আব্দুল্লাহ বাকী, কনেষ্টবল নুরুজ্জামান,শেখ আব্দুল্লাহ, রফিকুল ও কনস্টেবল সুরুজ।
এ ঘটনায় থানা ও উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দীনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিন্ধ্যান্ত মোতাবেক মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খবর পেয়ে মহাদেবপুর ও বদলগাছী সার্কেল এর এ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার বদলগাছী থানায় অবস্থান করছিলেন।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ.জা.ম শফি মাহমুদের সঙ্গে রাত ১০ টা ২ মিঃ মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত ঘটনা সর্ম্পকে কিছুই জানেন না বলে জানান।
ইত্তেফাক/নূহু