দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত লোডশেডিং ও বিদ্যুত বিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ বিষয়ে সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
কাউখালী(পিরোজপুর):বিদ্যুত্ বিভ্রাটের প্রতিবাদে হারিকেন ও হাতপাখা হাতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত পিরোজপুরের কাউখালী উত্তর বাজার সড়কে পুরাতন রাজস্ব অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন গ্রাহকেরা। উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে নিয়মিত বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এর প্রতিবাদে ও পিরোজপুরের পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে হাতপাখা ও হারিকেন হাতে নিয়ে সর্বস্তরের জনগণ ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আঃ লতিফ খসরুর সভাপতিত্বে মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উত্তর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম রতন, ব্যবসায়ী আবু মোঃ ফরিদ, প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু, অরুণ কর্মকার প্রমুখ। এছাড়া মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন- কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সংস্কৃতিজন সুব্রত রায়।
বক্তারা বলেন, গত এক মাস ধরে শহরে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ও গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও গ্রাহকেরা বিদ্যুত্ পাচ্ছেন না। এ অবস্থা কেন হচ্ছে, তা উচ্চপর্যায়ে তদন্ত হওয়া দরকার। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর):গত এক মাস ধরে মাঝারি ও ভারি বাতাস এবং বৃষ্টি শুরু হলেই রায়পুর উপজেলার পল্লী বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ রকম বাতাস ও বৃষ্টিতে ১০ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকার নজির রয়েছে শুধু পৌর শহরে। এতে গ্রাহকরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মাঝারি বাতাস ও বৃষ্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুধু পৌর শহরের বিদ্যুত্ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। এর আগেই আরও পাঁচদিন এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বৃষ্টির কারণে প্রায় ৮০ ঘণ্টায় বিদ্যুত্ সরবরাহ ছিল না মাত্র আট ঘণ্টা। উপজেলায় আবাসিক, অনাবাসিকসহ গ্রাহক সংখ্যা ৪৬ হাজার। গ্রাহকদের অভিযোগ, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে রায়পুরে বিদ্যুত্ সরবরাহে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। মাঝারি থেকে শুরু করে ভারি বাতাস ও বৃষ্টি হলেই এবার বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরপর বৃষ্টি ও বাতাস থামলেও বিদু্যুত্ সরবরাহ আর স্বাভাবিক হচ্ছে না। পুনরায় বিদ্যুত্ চালু করতে ১০ থেকে ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায় পৌর শহরে। গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। এভাবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
রায়পুর পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুদাস চন্দ্র রক্ষিত বলেন, রায়পুরে ৯০ শতাংশ বিদ্যুত্ লাইন সুপারি বাগান, পানি ও গাছপালার ভেতর দিয়ে নির্মিত। এজন্য ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টি হলে নিরাপত্তার কারণেই লাইন বন্ধ করতে হয়। তবে বড় কোনো কারণ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ সঠিক নয়।
দুমকি (পটুয়াখালী): দুমকি উপজেলার চৌদ্দ হাজার পল্লী বিদ্যুত্ গ্রাহক ব্যাপক লোড শেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। ব্যাপক লোড শেডিংয়ে বিভিন্ন অফিস-আদালতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ছয় ঘন্টাও বিদ্যুত্ থাকছে না। বেশিরভাগ সময়ে রাতে দুই ঘন্টাও বিদ্যুত্ পাচ্ছে না ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। দুমকিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত হলেও ব্যাপক বিদ্যুত্ ঘাটতির জন্য কর্তৃপক্ষ জেনারেটরের মাধ্যমে অফিসিয়াল কাজ-কর্ম করছে। অন্যান্য অফিসের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে। এ বিষয় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে বলেন- বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট থাকলেও পিক আওয়ারে বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে ২০ মেগাওয়াটের কম। এ সমস্যা তিনমাস এভাবে থাকবে। লোডশেডিং দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের স্কুলপড়ুয়া শিশু ও বৃদ্ধ বয়সীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।ধ বিদ্যুতের অভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার কারণে উপজেলার কল-কারখানাগুলোর মালিকরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। লোডশেডিং থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ইত্তেফাক/নূহু