জয়া আহসান। নিজ অভিনয়গুণে চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা। অভিনয় প্রতিভায় দেশের অন্য সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন অনেক আগেই। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে কাজ করছেন নিজস্ব ছন্দে। ছবি গল্প বা প্রডাকশনের ব্যাপারেও খুব চুজি তিনি। তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির শুভেচ্ছা জানাতেই কথা হয় বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে আলাদা মনে হচ্ছে কি-না?
এর আগেও আমি দু-বার রাষ্ট্রীয় এই সম্মান পেয়েছি, কিন্তু যতবারই এটা পেয়েছি ততোবারই আমার কাছে নতুন প্রাপ্তি মনে হয়েছে। আমি অসম্ভব খুশি এবং কৃতজ্ঞ আমার বাংলাদেশের সমস্ত দর্শক, পরিচালক ও টিমের প্রতি। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ জুরি বোর্ডের প্রতি, যারা আমাকে মনোনীত করেছেন। কারণ এটা আমার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান।
মৌলিক গল্পের চলচ্চিত্রগুলো আমাদের হলগুলোতে খুব বেশিদিন প্রদর্শিত হয় না। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি-না?
আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা অবশ্যই দুঃখজনক। আমাদের হলগুলোতে মৌলিক গল্পের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও হলগুলোর আগ্রহী মনোভাব খুব কম। যার প্রভাব পড়ে পরিচালক ও চিত্রনাট্য লেখকদের ওপর। মৌলিক গল্পের প্রতি হল মালিকদের আগ্রহ না থাকায় প্রযোজকরা মৌলিক গল্প পেলে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তখন পরিচালকের শেষ ভরসা করতে হয় সরকারি অনুদানের জন্য।
অনুদানের টাকা নিয়েও নানা ধরনের অভিযোগ আছে। অনুদানের টাকা পাওয়ার পর ঠিকমতো ছবির শুটিং শেষ না করা, ছবির কাজ পিছিয়ে ফেলা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
ঠিক সময়ে কাজ শেষ না করতে পারাটা আসলে আমাদের দুর্ভাগ্য ও ব্যর্থতা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রডিউসারশিপ তো এখনো সেভাবে দাঁড়ায়নি। আমরা যারা শিল্পমানের কাজগুলো করতে চাই, মানে যেসব নির্মাতারা চান তাদের পাশে তো প্রযোজকরা সেভাবে দাঁঁড়ান না। সেই জায়গায় আমি দেখেছি সরকার খুব সহজ ও শর্তহীনভাবেই বেশ বড় অঙ্কের একটা টাকা দিচ্ছে। কেউ যদি একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেই চায় তাহলে সেটা অনেক বড় সাপোর্টের। সরকার যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে সেভাবে অন্য কেউ তো দাঁড়াচ্ছে না। তাই আমাদেরও উচিত ওই ধরনের বাণিজ্যিক ঘরানার ছবিগুলোর পাশাপাশি মৌলিক চলচ্চিত্র বানিয়ে আমাদের নিজেদের ছবি দিয়ে মধ্যবিত্ত দর্শক যেন হলে ফেরে এমন উদ্যোগ নেওয়া। আমাদের এখানে কত ভালো ভালো ছবি হয়, এগুলো যেন একটা সময় বিশ্ব চলচ্চিত্রে জায়গা করে নেয় এমনভাবেই উদ্যোগটা নেওয়া উচিত।
বিসর্জন চলচ্চিত্রের জন্য আপনি কলকাতাতেও পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্রের প্রচার-প্রচারণাতেও ছিলেন। বিভিন্ন হলে গিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি দেখেছেন। সাফটা চুক্তি কিংবা যৌথ প্রযোজনার আমাদের চলচ্চিত্রগুলোর প্রতি ওদের দর্শকদের মনোভাব কেমন দেখেছেন?
কলকাতার দর্শক এখন আর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র দেখে না। কারণ তাদের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বড় মাধ্যম হচ্ছে বলিউড। যৌথ প্রযোজনায় যে কাজগুলো হচ্ছে সেগুলো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র। বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখেই বানানো হচ্ছে। আমরা যে চিন্তা ভাবনা করে সেগুলো নির্মাণ করছি ফলাফলটা কিন্তু তার বিপরীত। যে পরিকল্পনা নিয়ে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ হচ্ছে সঠিক উদ্দেশ্যটা পূরণ হচ্ছে না। সাফটা চুক্তির মাধ্যমে যে চলচ্চিত্রগুলো ওখানে যাচ্ছে সেগুলো সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কলকাতা পর্যন্ত সেগুলো পৌঁছায় না, কারণ তারা জানে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র খুব একটা ভালোমানের নয়। কিন্তু বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বাইরেও যে আমাদের ‘গেরিলা’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘জালালের গল্প’, ‘আয়নাবাজি’, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’-এর মতো চলচ্চিত্র হচ্ছে সেগুলো তারা বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গেলে জানতে পারে। তাই বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি আমাদের মৌলিক গল্পের চলচ্চিত্রগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রদর্শন করা দরকার।
আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার আপনার চোখে কেমন?
অভিযোগ শুনি আমাদের দর্শক নাকি চলচ্চিত্র দেখে না। এটা মিথ্যা ধারণা। আমাদের গল্প ভালো হলে দর্শক সিনেমা দেখে। আমাদের অধিকাংশ সিনেমার গল্প গতানুগতিক ধারার। এছাড়া বাজেট নিয়েও আমাদের বেশকিছু সমস্যা আছে। কারণ একটাই আমাদের চলচ্চিত্রে যারা অর্থলগ্নিকারক তারা যদি তাদের টাকাটা না তুলতে পারেন তাহলে চলচ্চিত্রের প্রতি একটা অনীহা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া আমাদের চলচ্চিত্রের বাজারটা আগের চেয়ে অনেক ছোট হয়ে গেছে।
এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে চলছে?
কলকাতা পৌঁছে খুব ভোরে শুটিংয়ে যোগ দিতে হবে। ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’ নামে একটি ছবির। নুরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’, মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ কিংবা আকরাম খানের ‘খাঁচা’ চলচ্চিত্রগুলো মুক্তির অপেক্ষায় আছে। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতায় ‘ভালোবাসার শহর’ নামে একটি ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/আনিসুর