সংসার রক্ষার জন্যই পাঁচ দিনের নবজাতককে পুকুরে ফেলে হত্যা করলেন মা আকলিমা খাতুন। স্বামী সাবু মিয়া তার স্ত্রী আকলিমাকে হুমকি দিয়েছিল কন্যাশিশু জন্মদিলে তাকে তালাক দেওয়া হবে।
শনিবার সকালে হত্যার সঙ্গে জড়িত উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাটলাল গ্রাম থেকে নবজাতকের বাবা সাবু মিয়া ও মা আকলিমা খাতুনকে গ্রেফতার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
পরে শনিবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাবু মিয়া স্ত্রী আকলিমা খাতুন।
তিনি আদালতকে জানান, স্বামীর ভয়ে ও সংসার রক্ষার জন্যই তার পাঁচ দিনের কন্যা সন্তানকে পুকুরে ফেলে দেন। নবজাতকের বাবা সাবু মিয়া ও মা আকলিমা খাতুনকে জেলহাজতে পাঠান আদালত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পাতিবার রাতে ঘর থেকে নবজাতকটি নিখোঁজ হয়। পরের দিন শুক্রবার বিকালে প্রতিবেশীরা পার্শ্ববর্তী ধাপপাড়ার একটি পুকুরে নবজাতকের লাশ ভেসে উঠতে দেখে। ওই ঘটানায় পুলিশ বাদী হয়ে নবজাতকের বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা জানায়, দিনমজুর সাবু মিয়া ৮-৯ বছর আগে একই গ্রামের আকলিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সের একটি মেয়ে আছে। পরবর্তীতে আকলিমা আবার অন্তঃসত্ত্বা হলে সাবু মিয়া তাকে জানিয়ে দেন- এবার মেয়ে হলে তাকে তালাক দিবেন।
আকলিমা আবার কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আকলিমাকে বকা ও বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন সাবু মিয়া।
রবিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শুকুর আলী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতে নবজাতকের মা আকলিমা খাতুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে