রানাপ্লাজা দুর্নীতি : রানাসহ ১০ জনের বিচার শুরু

রানাপ্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। ফলে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হল। রবিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেন।  
 
চার্জ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার আগে ভবন মালিক সোহেল রানার মাসহ ৬ জনকে অব্যাহতি দেন। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মতে দায় থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে আদেশে বলা হয়।
 
অন্য ১০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে আগামী ৫ জুলাই মামলায় বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। 
 
মামলার আসামি সোহেল রানাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে মর্মে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান। আসমিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। 
 
এরা হলেন- সোহেল রানা, তার বাবা মো. আবদুল খালেক, রানার মা মর্জিনা বেগম, সোহেল রানা, প্রকৌশলী রেফাত উল্যাহ, উত্তম কুমার রায়, রফিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল হাসান, ফারজানা ইসলাম ও আব্দুল মুত্তালিব।
 
অব্যাহতি পেয়েছেন স্থপতি হাজী মো. আলী খান, স্থপতি এটিএম মাসুদ রেজা, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, মর্জিনা বেগম ( পিতা-রাবিবুর রহমান), মো. আবুল বাশার ও মো. আমিনুল ইসলাম। 
 
দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে চার্জশিটে ত্রুটি থাকায় ফের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুতে একই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। গত ১৯ এপ্রিল চার্জ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য হয়। 
 
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জন নিহত এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ২৯১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এরা সবাই ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
 
ঘটনার পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অনুসন্ধানের নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে হওয়ায় ওই সময় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে বাদ দিয়েই তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তদন্তে সোহেল রানাই ভবনের মূল দেখভালকারী ছিল প্রমাণিত হলে তাকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 
মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক এসএম মফিদুল ইসলাম ওই বছরের ১৬ জুলাই সোহেল রানাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই