জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এমপি সমর্থকদের সংঘর্ষ

মেহেন্দিগঞ্জে একটি ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা পরিষদের এবং স্থানীয় এমপির  সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।  সংঘর্ষে বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম ও মেহেন্দীগঞ্জের পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খানসহ দশ জন আহত হয়েছেন। গত রবিবার মধ্য রাতে উপ জেলার টিএন্ডটি ব্রিজের কাছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ও সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের গাড়ি বহর মুখোমুখি হলে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।  তবে পংকজ দেবনাথ দাবি করেন- মইদুলের সমর্থকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা করে। ওই গাড়িতে আমি ছিলাম; কিন্তু শ্রমিকরা ধাওয়া করলে মইদুলের সমর্থকরা পালিয়ে যায়।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুলের দাবি- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি দিয়ে পংকজ দেবনাথ রাস্তায় বেরিকেড দেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এদিকে চানপুর ইউপির আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহে আলম ঢালীকে তার গ্রামের বাড়ি চর খাটখাটায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকাল ৪টায় র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সমর্থকরা ওই এলাকা ছেড়ে দেন। জানা গেছে, নির্বাচনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঢালীকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে পংকজ দেবনাথ সমর্থন দিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী বাহাউদ্দিন ঢালীকে। দুই প্রার্থী সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। এ নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম দাবি করেন, চানপুর ইউপির নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব আহমেদ, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আরজুসহ ১০/১৫ জন মোটর সাইকেলযোগে পাতারহাট বন্দরের বাসায় ফিরছিলেন। রাত পৌনে ১২টায় পথিমধ্যে টিএন্ডটি ব্রিজে পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি নিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে অতর্কিতভাবে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় তিনিসহ (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খান ও ১০/১২ নেতাকর্মী আহত হয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অভিযোগ, হামলার  সময় মেহেন্দিগঞ্জ থানার এসআই ইয়াদুল, এসআই মাহতাব পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করে।

এ ঘটনার পরও এমপি পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়া দেওয়া হয়। এ সময় পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মোতালেব জাহাঙ্গীরের কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়।

সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তার আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুকে ঢাকাগামী লঞ্চে তুলে দিয়ে ইউএনওর গাড়িতে বাসায় ফেরেন। ইউএনওর গাড়ি তাকে নামিয়ে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় কতিপয় দুর্বৃত্ত তাতে আক্রমণ করেন। এ সময় সেখানকার অটো রিকশা শ্রমিক ও টেম্পো শ্রমিকরা হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পংকজ দেবনাথ এমপি বলেন, পরবর্তীতে আমি জানতে পারি ইউএনওর গাড়িতে আক্রমণ করতে আসা মটোর সাইকেল শোভযাত্রার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম ছিলেন। তিনি বলেন- মইদুল ইসলামের মতো একজন রাজনীতিবিদের কাছে এমন নোংরা আচরণ আশা করা যায় না। তিনি ইতোপূর্বে আমার বিরুদ্ধে অন্য লোক দিয়ে মিথ্যা বক্তৃতা করিয়েছেন। এলাকার উন্নয়নেও তিনি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।

প্রসঙ্গত মেহেন্দীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের সাথে দীর্ঘ দিন যাবত্ সেখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথের বিরোধ চলে আসছে। সেই পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে উপজেলা সদরে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে গতকাল সোমবার বরিশাল প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য পংকজ দেবনাথ থানা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকে নিয়ে তাণ্ডব শুরু করেছেন। তারা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বাড়ি পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

অপরদিকে মেহেন্দীগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে পংকজ দেবনাথ অভিযোগ করেন- রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য নিয়েই তার বিরুদ্ধে এসব অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু