মাসুম রেজা। দেশের গুণী একজন চিত্রনাট্য ও গল্পকার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার লেখা অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এতো বছরেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ওঠেনি তার হাতে। সেই না-পাওয়ার গল্পটাও শেষ হলো। ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকারের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ পাচ্ছেন তিনি। সার্বিক এই বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে—
জাতীয় পুরস্কার পাওয়া মানেই কাজের দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। আমি ৩০ বছর ধরেই গল্প লিখছি, কাজ করছি একদম ভালোবাসা থেকে। সে জায়গা থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে।
প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন, কেমন লাগছে?
জাতীয় পুরস্কারের মতো সম্মানের বিষয়টি অবশ্যই ভালো লাগার এবং গৌরবের। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয়ভাবে পুরস্কার জেতা নিজের ভেতর অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করছে। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া মানেই কাজের দায়িত্ব আরো বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। আমি ৩০ বছর ধরেই গল্প লিখছি, কাজ করছি একদম ভালোবাসা থেকে। সে জায়গা থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে।
আমাদের সিনেমা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের প্রাধান্য বেশি থাকে। মৌলিক গল্পের অভাব দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু কাজ হচ্ছে। মৌলিক গল্প নিয়ে কী বলবেন?
সত্যি বলতে একটি ভালো সিনেমার জন্য আমাদের গল্পের গাঁথুনিটাও ভালো হওয়া দরকার। সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের গল্পের জন্য খুব বেশী বাজেট রাখা হয় না। একটা ভালো গল্প থেকে একটা ভালো সিনেমা সম্ভব। কিন্তু একটা খারাপ গল্প থেকে কখনো ভালো সিনেমা আশা করা যায় না। তাই সিনেমার ক্ষেত্রে গল্পকে প্রাধান্য দিলে সিনেমা ভালো হবে। আমাদের দর্শক এখন বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্নতা চায় সে চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে বেশকিছু গল্প উঠে আসছে সিনেমার পর্দায়।
আপনি সিনেমার চেয়ে নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখে থাকেন বেশি। এখনকার পরিকল্পনা কী?
আমাদের চলচ্চিত্রের বাজারের চেয়ে নাটকের বাজারের চাহিদা প্রচুর। ভালো নাটক হচ্ছে, ভালো সিনেমা হচ্ছে; কিন্তু দর্শক দেখছে না। তাহলে তো লাভ নেই। প্রথমে আমাদের প্রদর্শনী ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে, তারপর জোর দিতে হবে নির্মাণে। আমরা শুধু নির্মাণ করে যাচ্ছি কিন্তু সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে পারছি না বলেই আমাদের দর্শক হারাচ্ছি। আর হ্যাঁ, এখন নাটকের চেয়ে সিনেমার দিকেও একটু বেশি মনোযোগী হবো।
আমাদের তো গল্প লেখক সংকট রয়েছে। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
আমাদের দেশে গল্প লেখকদের জন্য সঠিক সম্মান নেই, বাজেটও থাকে না। পুরোপুরি পেশাদারিত্বের জায়গা তৈরি হয়নি। কাজের পরিবেশটা একজন শিল্পীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা না হলে স্ক্রিপ্ট রাইটারের জন্য কাজ করা মানসিকভাবে অনেক চাপের হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের আগে অনেক ভালো ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিলেন। তারা অনেক ভালো ভালো গল্প তুলে ধরেছেন। কিন্তু অনেকেই আবার ক্ষোভ অভিমান নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন এই প্ল্যাটফর্ম।
আমাদের নাটক, সিনেমার দর্শক এবং বাজার সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
আমাদের নাটকের মান খুব বেশি খারাপ নয়, কিন্তু বিজ্ঞাপনের অপ্রতুল ব্যবহারের ফলে দর্শক নাটকের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। সিনেমার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরের সিনেমার প্রতি হল মালিকদের আগ্রহ নেই। খুব বেশিদিন সেগুলো হলে প্রদর্শিত হয় না। এছাড়া আমাদের হলের পরিবেশ নেই, হল সঙ্কট রয়েছে জেলা, বিভাগীয় শহরগুলোতে। যার পুরো প্রভাব পড়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রির উপর। এই বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন হলে, সরকার উদ্যোগ নিলে অবশ্যই আমাদের নাটক, সিনেমার বাজার আবারও ফিরবে।
ইত্তেফাক/আনিসুর