'উন্নয়নের নামে বস্তি বানানো চলবে না', 'অবিলম্বে ভূমি অধিগ্রহণ কর', 'অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধ করো', 'স্বতন্ত্র জায়গায় ভাস্কর্য চাই', 'দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা চাই' ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ভূমি অধিগ্রহণ ও সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা মাফিক উন্নয়নের দাবিতে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভবন নির্মাণের জন্য আনা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের রূপরেখা থাকে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে-এ রূপ কোন পরিকল্পনা নেই। ছাত্র হলের মাত্র কয়েক হাত দূরেই ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ চলছে। দুইটি ছাত্র হলের পাশে যে জায়গা আছে তা কোন ভবন নির্মাণের জন্যই উপযোগী নয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ করছে।'
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য বিশাল পরিসরের জায়গা দরকার কিন্তু প্রশাসন মাত্র কয়েক হাতের মধ্যে ভবনের পাদদেশে ভাস্কর্য নির্মাণ করছে। মানববন্ধনে ভূমি অধিগ্রহণ, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংযোগ রাস্তা নির্মাণ, স্বতন্ত্র জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থপনাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান। শিক্ষকরাও একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে যোগ দেন।'
মানববন্ধন শেষে উপাচার্যকে ভূমি অধিগ্রহণ, অপরিকল্পিত ভবন ও ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণের তিন দফা দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের যে নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়েছে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার কথাও বলা হয় স্মারকলিপিতে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফের সাথে কথা বলতে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও ওপাশ থেকে কেউ ফোন তোলেননি। উল্লেখ্য, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের কয়েক হাত দূরেই ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন একটি আবাসিক হল। প্রশাসনিক ভবনের পাদদেশে খুবই সংকুচিত জায়গায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছে। একাডেমিক ভবন (পশ্চিম) এর পাশেই নতুন একটি ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।
ইত্তেফাক/জামান