ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ৮১ বছরের পুরানো কাঁচেরকোল এমএন খান পাবলিক লাইব্রেরি। ব্রিটিশ আমলে পশ্চাত্পদ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়াতো এ লাইব্রেরি। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এ ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিতে ১৮ বছর ধরে তালা ঝুলছে।
কাঁচেরকোলের জমিদার খান বাহাদুর কাজী সরোয়ার উদ্দিন ও ডাক্তার হাবিবুর রহমান ১৯৩৬ সালে প্রত্যন্ত গ্রামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। কচুয়া বাজারে প্রথমে টিনের ঘরে ক্ষুদ্র পরিসরে লাইব্রেরির কাজ শুরু করেন। তখন কলকাতা থেকে খবরের কাগজ আসতো গ্রামের এ লাইব্রেরিতে। বইও সংগ্রহ হতে থাকে। ১৯৪২ সালে লাইব্রেরির জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। তত্কালীন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমএন খান লাইব্রেরি ভবন নির্মাণে সহায়তা করেন। তিনি এ লাইব্রেরি ভবন উদ্বোধন করেন। নামকরণ করা হয় কাঁচেরকোল এমএন খান পাবলিক লাইব্রেবি ও ভিলেজ হল। বাড়তে থাকে লাইব্রেরির কলেবর। অনেক দুষপ্রাপ্য বইয়ে ভরে উঠে লাইব্রেরি। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে পাঠক। এক সময় এ লাইব্রেরির নাম ছড়িয়ে পড়ে। সে যুগে লাইব্রেরিতে রেডিও আসে। সন্ধ্যায় খবর শুনতে লোক ভিড় করতো লাইব্রেরিতে। বই ও খবরের কাগজ পড়তে এবং রেডিও’র খবর শুনতে পাঁচ-সাত মাইল দূর থেকে লোক আসতো। লাইব্রেরি তখন অনেক জমজমাট ছিল।
জমিদার বাড়ির ছেলে মলি মিয়া লাইব্রেরিকে আকড়ে রাখতেন। তার মৃত্যুর পর লাইব্রেরিতে শনির দশা পায়। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয় লাইব্রেরি নিয়ে। ১৯৯৮ সালে লাইব্রেরির দরজায় তালা পড়ে। নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান বই ও আসবাবপত্র। অনেক বই উইপোকায় খেয়ে নষ্ট করেছে। ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। দেওয়ালে গাছ গজিয়েছে। লাইব্রেবির ভবনের ছাদে ফাটল ধরেছে।
কাঁচেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন বলেন, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লাইব্রেরি বন্ধ হওয়া দুঃখজনক। তিনি লাইব্রেরি চালু করার জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানান।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. উসমান গনি বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরি চালুর চেষ্টা করবেন।
ইত্তেফাক/নূহু