গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইজারা ছাড়াই বেআইনিভাবে বংশী নদীর লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে নির্মাণাধীন বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও অবৈধ ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট।
সরজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশাসনের সহায়তায় কালিয়াকৈর-ধামরাই ও কালিয়াকৈর-ধানতারা সড়কের দুই পাশে কৃষি জমির উপর অবৈধভাবে বেশ কয়েকটি ইটভাটা নির্মিত হয়েছে। ড্রেজার ও ভেকুর মাধ্যমে উপজেলার বেগুনবাড়ী ও ডুবাইল এলাকার বংশী নদীর তীর থেকে লাখ লাখ ঘনফুট বালু কেটে নিয়ে এসব ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে উপজেলার উত্তর দাঁড়িয়াপুর ও পলাশতলী এলাকার বংশী নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । ইজারা ছাড়া বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা এসব বালু নির্মাণাধীন বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট।
ঢালজোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আক্তার উজ্জামান জানান, ডুবাইল গ্রামসহ এলাকার বিভিন্ন কৃষি জমির উপর অবৈধভাবে বেশ কয়েকটি ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। বংশী নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার ডুবাইল-পাকুরাইল রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বংশী নদীর উপর নির্মিত ডুবাইল ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার সুত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান মিন্টু বলেন, কোনো রকম ইজারা ছাড়াই বংশী নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় উপজেলার বোর্ডঘর-উত্তর দাঁড়িয়াপুর-হাঁটুভাঙা সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু