ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, 'যারা বিজ্ঞান পছন্দ করে তারা ওমর খৈয়ামকে পছন্দ করেন। উমর খৈয়াম অত্যন্ত প্রগতিশীল একজন মানুষ ছিলেন। এগার শতকে তিনি যে চিন্তা করতেন অন্যরা সে চিন্তা আরও কয়েক শতক পরে করেছে। বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরে মানুষ যখন পুরাতন সংস্কারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে তখন খৈয়ামের প্রতি আগ্রহী হতে ইচ্ছে করে।'
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে কাজী নজরুল এর ১১৮তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে 'কাজী নজরুল ইসলামের উপর ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব: বিশেষত উমর খৈয়াম' শিরোনামে প্রথমবারের মতো এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। আবু রায়হান বেরুনী ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই আব্বাস দিহনভি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফারসি ভাষা সাহিত্যের অধ্যাপক ড.কুলসুম আবুল বাশার মজুমদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ
ইরানের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই আব্বাস দিহনভি এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনে আল বেরুনি ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এই অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ইরান এবং বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের যারা গর্ব তাদের আলোচনা করার মধ্য দিয়ে পারস্পপারিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, 'কবি কাজী নজরুল ইসলাম উমর খৈয়ামের ১৯৭ টি রুবাই (পঙতি) অনুবাদ করেছেন। এটা অন্য কোনো কবি করেনি। এখানেই নজরুল ইসলামের বিশেষত্ব।' আলোচনা অনুষ্ঠানের পর নজরুল সংগীত এবং কবিতা পরিবেশন করা হয়।
ইত্তেফাক/জামান