অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবি করায় অপহরণকারী আসাদুজ্জামান ফাহিমসহ ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে বরিশাল পলিটেকনিক ইস্টটিউটের অপহৃত ছাত্র দ্বীপ কুমার পালকে উদ্ধার করতে গেলে ফাহিমের সহযোগিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়।
পুলিশ জানায়, অপহৃত দ্বীপ কুমার টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ঘুনাবাড়ি গ্রামের কেশব পালের পুত্র ও বরিশাল পলিটেকনিক ইন্সটিউটের ইলেকট্রিক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অপহরণকারী ফাহিম একই ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ভোলা জেলার বাসিন্দা।
দ্বীপ কুমার জানায়, বুধবার ভোর পাঁচটায় সে রাজধানী ঢাকা থেকে বাসযোগে বরিশাল নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এসে নামে। এরপরই ফাহিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় পলিটেকনিক ইন্সটিউটের ছাত্র রেজা হত্যায় সে (দ্বীপ) জড়িত এমন মিথ্যে অভিযোগ এনে ফাহিম তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে ফাহিম ও তার সঙ্গে থাকা ৪/৫ জন সহযোগী মিলে দ্বীপকে কৌশলে অপহরণ করে পলিটেকনিক ইস্টটিউটের ছাত্রাবাসের ৫০১ নম্বর রুমে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।
দ্বীপকে বৈদ্যুতিক শর্ট দেয়াসহ হত্যার জন্য দুইবার গলায় ছুড়ি ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এক পর্যায়ে দুইজনকে পাহারাদার রেখে ফাহিম ও তার অপর সহযোগীরা কলেজের সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য চলে যায়।
দ্বীপ কুমার আরও জানায়, পাহারাদার দুইজনের চোখ এড়িয়ে কৌশলে দ্বী ঢাকায় অবস্থানকারী তার এক ভাইকে নিজের মরণাপন্ন অবস্থার কথা মোবাইলে এসএমএস করে জানিয়ে দেন। এর পর তার ভাই পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ বেলা দুইটার দিকে অপহৃত দ্বীপ কুমারকে উদ্ধার করতে পলিটেকনিক হোস্টেলে যায়। এ সময় ফাহিম ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
এ সময় পুলিশের ওপর চড়াও হয় ফাহিমের অপর সহযোগীরা। তারা এক কনষ্টেবলকে মারধর করেন। অপর পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌছায়। সন্ধ্যায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে হামলাকারী ২৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
নগরীর কোতোয়ালী মডেল ওসি শাহ আওলাদ হোসেন পিপিএম বলেন, দ্বীপকে উদ্ধারের সময় ওই রুম থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে আনা ছোড়া, চাক্কু, প্লাস, কস্টটেপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় অপহরণ, চাঁদাদাবি ও অস্ত্র উদ্ধার আর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃত ২৫ জনকে ঐ মামলায় আদালতে সোর্পদ করা হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে ওসি জানান।
ইত্তেফাক/নূহু