শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাসী: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। 
 
আনিসুল হক  বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে ‘মামলা জট নিরসনে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের মানোন্নয়ন’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি, অবাধ বিচার, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতা নিশ্চিত করেছে। আইনমন্ত্রী বলেন,‘সাংবিধানিক সুরক্ষা বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের একজন দরিদ্র-অসহায় নাগরিককে তাঁর অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে পুরোপুরি সমর্থ হবে না যদি কিছু আইনি সহায়তা নিয়ে তার পাশে না দাঁড়ানো যায়। তাই বর্তমান সরকার শুধু জনগণের বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে না, একই সাথে জনগণের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও কাজ করছে।’ 
 
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানও বক্তব্য রাখেন। আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজের অন্য যে কোনো অংশের চেয়ে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরাই অপরাধী ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের সংস্পর্শে বেশি আসে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় এই দরিদ্র মানুষেরাই আটক, রিমান্ড, বিচার, দোষী সাব্যস্তকরণ, ডিটেনশন, মুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে রায়ের ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো/আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।  
 
মন্ত্রী বলেন, যত দিন সমাজে গরীব মানুষ থাকবে, তত দিন মানবাধিকার এবং সমতা তুলে ধরার জন্য আইনি সহায়তার আবশ্যকতা থাকবে। এ কারণে আইনের শাসন এবং আইনের দৃষ্টিতে সমসুরক্ষার পথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিরাপদ পরিভ্রমণের জন্য আইনি সহায়তার ব্যবস্থা থাকা অত্যাবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গঠনমূলক ও সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে “সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা প্রদান” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি সরকারি আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
আনিসুল হক বলেন,অধস্তন আদালতগুলোতে প্রায় ২৮ লাখ মামলাজট রয়েছে। এ মামলাজটের কবল থেকে বিচার ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে হলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) কোন বিকল্প নেই। ইতিপূর্বে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে উৎসাহিত করে বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করা হলেও জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে কাজ করার জন্য কোন অফিস না থাকায় জনগণ এসকল আইনের সুফল পাচ্ছিল না। 
 
তিনি বলেন,বর্তমানে মামলাজট নিরসনে জেলা ‘লিগ্যাল এইড অফিসগুলো’কে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ সংশোধন করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির