অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিড়ি-সিগারেটের বৈষম্যমূলক শুল্কনীতির প্রতিবাদে বিড়ি শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুরের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বিড়ি শ্রমিক বৃষ্টি উপেক্ষা করে রংপুরের জেলা প্রশাসনের কালেক্টর মাঠে মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলু, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, কর্মচারী-শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিন। বক্তরা বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে বিড়ির কাজ করে শ্রমিকেরা জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু কর্মস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি না করে অর্থমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে বিড়ি তুলে দিতে চান। তার এই বক্তব্যে শ্রমিকরা মর্মাহত ও হতাশ হয়েছে।'
তারা বলেন, 'বিড়ি ও সিগারেট একই পণ্য হওয়ার পরেও তিনি কেবল বিড়িতে তুলে দিতে চাচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয় তিনি (অর্থমন্ত্রী) সিগারেটের পক্ষপাতিত্ব করছেন।' তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, বিড়ি নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের সবার বিচার করতে হবে। সেই সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন শ্রমিকরা। শ্রমিকনেতারা বক্তব্য প্রত্যাহারসহ আগামী বাজেটে বিড়ির ওপর শুল্ক না বাড়ানোর দাবি জানান এবং মুজরি বাড়ানোর জন্য মালিকপক্ষে কাছে দাবি জানান।
উল্লেখ্য, প্রাক-বাজেট আলোচনায় এবং এনবিআরের পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্পকে বিদায় করার কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিকরা ফুঁসে উঠে। ইতোমধ্যে বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, যশোর, কুষ্টিয়া,পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, লালমনির হাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ভৈরব, শেরপুর, চট্টগ্রাম, ফেনি, নোয়াখালী, কুমিল্লা, টাংগাইল, জামালপুর ও অর্থমন্ত্রীর নিজ জেলা সিলেটে বিক্ষোভ করেছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিকরা।
ইত্তেফাক/জামান