রাজশাহীতে বারি গম আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে খরা ও তাপ সহিষ্ণু এবং নিজে থেকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী, উচ্চফলনশীল নতুন ছয় জাতের বারি গম আবাদে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। উচ্চফলনশীল এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বারি গম-২৮, বারি গম-২৯, বারি গম-৩০, বারি গম-৩১, বারি গম-৩২ ও বারি গম-৩৩।

রাজশাহী আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, বারি জাতের প্রত্যেকটি গম আবাদে সেচ খরচ ধানের তুলনায় অনেক কম এবং তাপ ও খড়া সহিষ্ণু। বারি গম যথাক্রমে ২৮, ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ নিজ থেকেই ব্লাইট ও রাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ। এছাড়া বারি গম-৩৩ নিজ থেকেই ব্লাস্ট প্রতিরোধী এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ। উচ্চতায় খাটো হওয়ার কারণে ঝড়-বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা পায়।

তারা আরও বলেন, উচ্চফলনশীল বারি জাতের গম আবাদে ধানের তুলনায় সেচ খরচ খুবই কম। বারি গমের বীজ বপনের পর থেকে মাত্র ২টি সেচ দিলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে কোথাও কোথাও একটি সেচ দিলেও চলে। বারি গমের বীজ বপনের ৬০-৬৫ দিনেই শীষ আসে এবং ১০০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলার উপযুক্ত হয়। ফলে একদিকে যেমন উত্পাদন খরচ ও আবাদের সময় কমেছে, অন্যদিকে ফলন মিলছে বিঘা প্রতি ১৫ মণ পর্যন্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে নতুন জাতের বারি গম আবাদ এবং ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল। তবে নানা প্রতিকূলতায় প্রকৃত আবাদ কিছুটা কমে ৯৬ হাজার ৫শ’ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২৫ হাজার ২৩০ হেক্টর, নওগাঁয় ২৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর, নাটোরে ২২ হাজার ৪০ হেক্টর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়। ইতোমধ্যে শতকরা ৩২ ভাগ জমির গম ঘরে তোলা হয়ে গেছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, নতুন জাতের বারি গম কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করতে তারা মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। ৩১ মার্চ শিবগঞ্জে, ৩০ মার্চ শনিবার গোদাগাড়ীর বিজয়নগরে, ২৮ মার্চ নওগাঁর সাপাহারে, ২৭ মার্চ গোদাগাড়ীর প্রেমতলীতে এবং ২৫ মার্চ চারঘাটের হলিদাগাছিতে মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। এসব মাঠ দিবসে দেখা যায়, বারি গম-২৮ বিঘাপ্রতি গড়ে ১৫ মণ, বারি গম-২৯ বিঘাপ্রতি ১৩ দশমিক ৫ মণ, বারি গম-৩০ বিঘাপ্রতি ১৪ দশমিক ৫ মণ, বারি গম-৩১ বিঘাপ্রতি ১৪ মণ, বারি গম-৩২ বিঘা প্রতি ১৪ মণ ও বারি গম ৩৩ বিঘাপ্রতি গড়ে ১৪ দশমিক ৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। উক্ত ফলন কৃষকদের আশাবাদী করে তুলেছে বলেও জানান তিনি।    

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. কবির ইকরামুল হক বলেন, ‘বারি গমের প্রতি শীষে গড় দানার সংখ্যা থাকে ৫০টি। তাই বিঘা প্রতি ফলনও হয় বেশি। আবাদ খরচ কম হওয়ায় নিয়ম মেনে যথাসময়ে বারি জাতের গম আবাদ করে লাভবান হতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।