কয়রায় পাউবোর ভেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালি ভেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৭ মে মধ্যরাতে প্রবল জোয়ারের চাপে পাউবোর ১৩-১৪/২ পোল্ডারের কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন ঘাটাখালি গ্রামের সোহরাব শেখের বাড়ি সংলগ্ন দুর্বল ভেড়িবাঁধের প্রায় দেড়’শ ফুট জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ঘাটাখালি, গোবরা পূর্ব চক, হরিণখোলা ও ২নং কয়রা গ্রাম লোনা পানিতে প্লাবিত হয়।

 

খবর পেয়ে সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজউদ্দিন ও কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করেন।

 

ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৪ মে ঘাটাখালি ভেড়িবাঁধের টেন্ডার সম্পন্ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডারের পর থেকে বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঠিকাদার পাঠাতে অনুরোধ করা সত্বেও সময়মত বাঁধের কাজ না করায় ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে এলাকার মানুষদের। এ জন্য তিনি পাউবোকে দায়ী করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ আ. গফফার ঢালী জানান, ২৮ মে বিকেল পর্যন্ত তিনটি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তা ছাড়া প্রায় তিন শতাধিক মত্স্য ঘের, চলতি আউশ মৌসুম ধানসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত লোনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এলাকার মানুষ। এ মুহূর্তে ভেঙে যাওয়া ভেড়িবাঁধ আটকানো না গেলে কয়রা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা লোনা পানিতে তলিয়ে যাবে।

পাউবোর আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলমের সাথে তার মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, ভেঙে যাওয়া ভেড়িবাঁধ আটকানোর জন্য পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাউবোর কোনো কর্মকর্তাকে ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়নি।

ইত্তেফাক/নূহু