বিচার বিভাগকে বিক্ষুব্ধ করবেন না

অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগকে বিক্ষুব্ধ করবেন না। রাষ্ট্রপতির অনুশাসনের কথা বলে আইন-কানুনের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবেন না। আইন মন্ত্রণালয় যদি মনে করে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত তাহলে মারাত্মক ভুল করবে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের স্বাধীনতা সংক্রান্ত মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ কথাগুলো বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশে দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। আদালত যথারীতি সেই আবেদন মঞ্জুর করে।

 

শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ে সহকারী জজ থেকে জেলা জজ পদ মর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা প্রেষণে কাজ করেন। আর সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত নেন সিনিয়র বিচারপতিরা। অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেন। এখন যদি আইন মন্ত্রণালয় তাদের মত করে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে মারাত্মক ভুল করবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রেষণে দিয়ে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু প্রেষণে থাকা বিচারকদের যদি প্রত্যাহার করে নেই তাহলে কি হবে? কিন্তু আমরা তা চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্রের সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করুক।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিধিমালা জারি করতে সময় চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কি? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সময়ের আবেদন। প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রক্রিয়া চলছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না? বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বলেন, কাঁদার নয়, হাসার সুযোগ আছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলো কি এভাবে চলবে? আমরা চাই একটা সিস্টেমের মধ্যে আনতে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার মিনিস্টিকে (আইন মন্ত্রণালয়) বলবেন, জেনারেল ক্লজ অ্যাক্টের ২১ ধারা পড়তে। সরকারকে বলবেন যেসব বিচারক প্রেষণে যান তারা সরকারের কর্মকর্তা নন। সুপ্রিম কোর্টের অধীন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রেষণে থাকা বিচারকদের মধ্যে কারা কারা বিদেশ গমন করে তার তালিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা (মন্ত্রণালয়) তা এখনো দেয়নি। প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, আমিও বুঝতেছি আপনার এই সময় আবেদনের পেছনের কারণ। কিন্তু এটি দেশের বিচার বিভাগের জন্য মঙ্গলজনক নয়। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল এ শুনানি চলে। প্রসঙ্গত গত দুই বছরে এই বিধিমালা জারি করতে এ নিয়ে সতেরো বার সময় চেয়েছে সরকার।

ইত্তেফাক/নূহু