ষোড়শ শতাব্দির গোড়ার দিক ইউরোপীয়দের জ্ঞানচর্চার কিছু নমুনা আধুনিক যুগেরও বিষ্ময়। বিশেষ করে ওই সময়ের একটি মানচিত্র নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। রাষ্ট্রীয় গোপন নথি থেকে তথ্য চুরি করে মানচিত্রটি তৈরী করেছিলেন আলবার্টো ক্যান্টিনো নামের একজন গুপ্তচর। তার সংগ্রহ করা তথ্য থেকে ১৫০২ সালে তৈরী করা হয়েছিল গোলাকার বিশ্বের সমতল মানচিত্র। ওই মানচিত্রে সমস্ত পৃথিবীকে একসঙ্গে দেখা যায়। এতে দিক নির্দেশক চিহ্নগুলো এত নিঁখুতভাবে কিভাবে সংযোজন করা হয়েছিল সেটার কিনারা করা সম্ভব হয়নি এখনো। ওই সময়ে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা এখনকার মতো আধুনিক ছিল না। ফলে গোটা পৃথিবীর জল ও স্থলভাগ সম্পর্কে তথ্য ও ধারণা এক স্থানে জড়ো করে মানচিত্র ফুটিয়ে তোলার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না।
আধুনিক যুগের ভৌগলিকরা বলেছেন, মানচিত্রটি দেখলে এখনো বিভিন্ন দেশ বুঝতে পারবে তারা তাদের ভূমির ‘ন্যায্য’ অংশ পেয়েছে নাকি প্রতিবেশি অন্য কোনো দেশের ভেতর ঢুকে গেছে। গবেষকরা বলেছেন, এই মানচিত্র থেকে উপকূল রেখা, পোতাশ্রয়, নদী এবং অন্যান্য জল ও স্থলভূমির সীমানা সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যায়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি মহামূল্যবান এই মানচিত্রটি ইতালি থেকে চুরি হয়ে যায়। কয়েক বছর পর এটি সেখানকার একটি কসাইয়ের দোকানের দেয়ালে ঝুলতে দেখে তা উদ্ধার করে পুলিশ।
আলবার্টো ক্যান্টিনো ইতালির একজন ডিউকের গুপ্তচর ছিলেন। তিনি পর্তুগালে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কিভাবে এই মানচিত্রের তথ্য হস্তগত করলেন। এই স্যাটেলাইট যুগের মানচিত্রপ্রণেতারাও যেখানে তথ্যসমৃদ্ধ মানচিত্র সাজাতে হিমশিম খেয়ে যান, সেখানে ওই ‘অন্ধকার যুগে’ কিভাবে তিনি গোটা পৃথিবীর ছবি একসাথে জুড়ে ফেললেন। একটি গবেষণা সূত্রের দাবি, সম্ভবত তিনি নিজে এটা করেননি। কোনো মানচিত্রপ্রণেতা ভাড়া করে তৈরী করে নিয়েছেন। আরেকটি সূত্রের দাবি, তিনি বিপুল অর্থ খরচ করে মানচিত্রের তথ্য চুরি করেছিলেন। কিন্তু ওই যুগে কার নিকট থেকে বা কোথা থেকে তথ্য চুরি করলেন সেই প্রশ্নের উত্তর কারো মাথায় আসছে না।-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
ইত্তেফাক/নূহু