ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আতঙ্কে সোমবার রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ১০সহস্রাধিক লোক সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের তাদের পরিবারের সক্ষম ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকরা সাইক্লোন শেল্টারে পৌঁছে দেয়। শেল্টারে আশ্রিতদের আতঙ্কে রাত কাটলেও সকালেই তারা যে যার বাড়িতে ফিরে গেছেন। কিন্তু ছিন্নমূল ও নদী সংলগ্ন এলাকার বিশেষ করে সিডরে মৃত্যুপুরী হিসেবে খ্যাত সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথখালী ও বগী এলাকার কিছু বাসিন্দা এখনো শেল্টারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, ইলিশ আহরণের জন্য সাগরে যাওয়ার উদ্দেশে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও যেতে পারেনি শত শত ফিশিং ট্রলার। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র খবর পেয়ে ট্রলারগুলো শরণখোলর বিভিন্ন খালে আশ্রয় নেয়। কয়েকদিন আগে যে সব ট্রলার সাগরে গিয়েছিল সেসব ট্রলারও সাগর ছেড়ে পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। বনবিভাগ ও মৎস্যজীবী সমিতি সূত্রে এতথ্য জানা গেছে। IMG0
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর আলিফ রেজা জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সিপিপি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা শেল্টারে আশ্রিতদের সার্বক্ষণিক তদারকিতে ছিলেন।
পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মোহাম্মদ হোসেন জানান, বনবিভাগের সকল স্টেশন ও ক্যাম্পে আগেই শতর্ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। শত শত মাছ ধরা ট্রলার দুর্যোগের খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবনের কচিখালী, সুপতি, কটকা, বগী ও মেহের আলীর চরসহ বনের বিভিন্ন ছোট নদীতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। ওইসব ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বনকর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন।
সাউথখলী ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে মোজাম্মেল হোসেন ও আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, কোনো দুর্যোগ এলেই আমাদের এ দুই ইউনিয়নই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণেই আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, শরণখোলার সহস্রাধিক ফিশিং ট্রলারের মধ্যে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ ট্রলার গত দুদিন আগে সাগরে ছেড়ে যায়। যেসব ট্রলার যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল সেগুলো এখন নিরাপদে রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই