জাবির আন্দোলন: বাড়িতে থেকেও মামলার আসামি

 
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জাবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা আন্দোলন ও ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় করা মামলায় এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে যারা সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না এবং অনেকে বাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সাংবাদিককেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
 
জানা যায়, মহাসড়ক অবরোধ ও উপাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগে আন্দোলনকারী ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ পূর্বক ৪০-৫০ জন অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
 
অনেককেই মামলায় গ্রেফতার দেখালেও তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, যাদের নামে মামলা করা হয়েছে তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবুও তাদের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
 
দুই ছাত্র নিহতের প্রতিবাদে বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়ক ও ভিসির বাসভবন অবরোধ, মারপিট, জখম, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে আশুলিয়া থানায় এ মামলা করেন রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক।
 
সেখানে দেখা যায়, আশিক মুস্তফা শাওন (অর্থনীতি ৪০তম ব্যাচ), শিহাব উদ্দিন (ভূগোল ও পরিবেশ-৪১তম ব্যাচ) এবং অনিক (বাংলা-৪৩তম ব্যাচ) এই তিন জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে সায়েম হৃদয় (প্রত্নতত্ত্ব- ৪৩তম ব্যাচ) যিনি একটি অনলাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে খবর সংগ্রহের কাজে সেদিন নিয়োজিত ছিলেন। এমনকি তিনি খবর সংগ্রহকালে শাখা ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হন। তার নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে।
 
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, 'ঘটনা তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।'
 
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে ভোরে জাবি সংলগ্ন মহাসড়কে রানা (মার্কেটিং) ও আরাফাত (মাইক্রোবায়োলজি) নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ ও ভিসির বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
 
ইত্তেফাক/জামান