কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাকে আবহওয়া বলা হয়। সাধারণত এক দিনের এমন রেকর্ডকেই আবহাওয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়। বর্তমান সময়ে আবহাওয়াবিদরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবহাওয়া সম্পর্কে অনেকটা নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন। তবে এক সময় মানুষকে নির্ভর করতে হতো অনুমানের ওপর। নিজের প্রয়োজনেই আবহওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে যথাসম্ভব নিখুঁত তথ্য পেতে নিরলস পরিশ্রম করেছে মানুষ। আর আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এই আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
বলা হয়, যুদ্ধের কোন ভালো দিক থাকার যুক্ত নেই। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বৈমানিক যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপসহ নানা কারণে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল আবহাওয়া। তাই তখন থেকেই যেন আবহাওয়ার সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে এক ধরনের তাড়না তৈরি হয়।
আর আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষুধা মেটানোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন ইংরেজ গণিতবিদ লুইস ফ্রাই রিচার্ডসন। মহাযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে মানুষ অতীত ইতিহাসের ওপর নির্ভর করতো। কিন্তু লুইস ফ্রাই রিচার্ডসন বিষয়টিকে মোটেও সেইভাবে দেখতে চাননি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য তিনি অঙ্কবিদ্যাকে কাজে লাগাতে চাইলেন।
সেই চিন্তা থেকে তিনি বায়ু প্রবাহ, তাপ, চাপ, বৃষ্টিপাত, আদ্রতা এইগুলো পরিমাপ করে সেই সব তথ্য বিশ্লেষণে মনোযোগ দেন। তবে তার সেই গাণিতিক হিসাব এতোটাই জটিল ছিল যে মাত্র ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে তাকে ছয় সপ্তাহ ধরে হিসেব কষতে হতো। প্রথম দিকে তার সেই হিসেব খুব একটা কার্যকরী না হলেও সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটারের মতো গণনা যন্ত্র আবিস্কার হওয়ার পর থেকে কার্যকরী রূপ নিতে থাকে।
এ কারণেই বলা হয়ে থাকে আবহওয়ার পূর্বাভাস জানার যন্ত্র আবিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবদান রয়েছে।-স্মিথ সোনিয়ান মাগ
ইত্তেফাক/নূহু