‘ইন্ডাস্ট্রি এখন আর আগের মতো নেই, সবাই সবার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত’

 
চিত্রনায়ক সম্রাট। এছাড়াও তার অন্য পরিচয় নায়করাজ রাজ্জাক-এর ছোট ছেলে তিনি। তবে নিজের কাজ দিয়েই দর্শকদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছেন সম্রাট। তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও নায়করাজকে নিয়ে সম্প্রতি বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
 
বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
 
রমজান মাসে অভিনয় জগত্ থেকে দূরে আছি। বলা যায় পরিবারকে সময় দিচ্ছি।
 
নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে পরিচালক বদিউল আলম খোকন কটুক্তি করলেন, অথচ আপনি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি—
 
কি বলবো বলুন, আমি আগেও মন্তব্য করিনি, এখনো করতে চাই না। শুধু একটা কথাই বলতে চাই, নায়করাজ রাজ্জাক কোন ধরনের লোক সেটা সবাই জানেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য কি করেছেন, না করেছেন সেটাও সবাই জানেন। নায়করাজকে নিয়ে যিনি মন্তব্য করেছেন তিনি কোন লেভেলের লোক আগে সেটা দেখতে হবে। কুকুর যদি আমাকে কামড় দেয়, আমি তো আর কুকুরকে কামড় দেবো না। বদিউলের মতো পরিচালক আমার বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা রাখেন কি-না সেটা সবারই জানা। আর শুধু আমিই কেন, নায়করাজকে নিয়ে কটুক্তি করার পর ইন্ডাস্ট্রির কেউ তো কিছু বললো না। আসলে ইন্ডাস্ট্রি এখন আর আগের মতো নেই, সবাই সবার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।
 
ইন্ডাস্ট্রি আগের মতো নেই বলতে কী বোঝাচ্ছেন?
 
ইন্ডাস্ট্রি আগের মতো নেই মানে এখন আরো খারাপ অবস্থা। আগে এফডিসিতে সিনেমা নিয়ে গবেষণা হতো, সিনেমার গল্প নিয়ে আলোচনা হতো। আর এখন এফডিসিতে গেলে দেখা যায় সবাই সবার চেয়ার নিয়ে ব্যস্ত। দলবল নিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করতে ব্যস্ত, কাজের কোনোকিছুই দেখি না।
 
এই কটুক্তির কারণ হিসেবে কী মনে করেন?
 
উত্তরটা সবারই জানা, চলচ্চিত্রের অনবদ্য অভিনেতাদের নিয়ে কটুক্তি করলে সহজেই আলোচনায় আসা যায়। আসলে যাদের মানসম্মান নেই তারা কাউকে কিছু বলতে দ্বিধাবোধ করে না। মানুষকে নিয়ে কটুক্তি করা তো তাদের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে।
 
 
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি প্রসঙ্গে কী বলবেন?
 
নতুন যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের জন্য অবশ্যই শুভকামনা। বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য তারা কি করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। শুধু চেয়ারে বসে ছবি না তুলে কাজের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। সবাই মিলে এফডিসিকে সঙ্কট মুক্ত করতে কাজ করা উচিত।
 
এফডিসিকে সঙ্কট মুক্ত করতে কি করা উচিত বলে মনে করেন?
 
আগেই বলেছিলাম, এফডিসিতে সিরিয়রদের সম্মান দেওয়া হয় না। বরং সিরিয়রদের নিয়ে কটুক্তি করে আলোচনায় আসতে চায়। এটা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। এফডিসিকে সঙ্কট মুক্ত করতে হলে এ জিনিসটা বন্ধ করতে হবে। আর আগের মতো সবার অংশগ্রহণে সিনেমা নিয়ে গবেষণা, সিনেমার গল্প নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এক কথায়, দলীয় কোন্দল থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর