গোপালগঞ্জে রমজানে টিসিবি পণ্যের সরবরাহ কম

রমজানে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলা শহরের টিসিবির ১০ জন পরিবেশক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থানে মাত্র ৩ জন ডিলার পণ্য বিক্রি করছেন। ৭জন পরিবেশকই রয়েছেন নিষ্ক্রিয়। সেই সাথে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক ক্রেতাই পণ্য না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন খালি হাতে।
 
পরিবেশকরা বলছেন চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করছেনা টিসিবি । তাই ক্রেতারা রমজানের পণ্য না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন । তবে এবারের রমজানে চাহিদামত পণ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসন।
 
রমজান এলেই ছোলা, চিনি, খেজুর, ভোজ্য তেল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের চাহিদা বেড়ে যায় । তাই এসব পণ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রির জন্য সরকার টিসিবিকে কার্যকর করেছে। অন্যান্য জেলায় ১৫ মে থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলেও দু’দিন পর ১৭ মে থেকে গোপালগঞ্জে এ পণ্য বিক্রি শুরু হয় ।
 
জেলা শহরের টিসিবির পণ্য বিক্রয় করার জন্য ১০ জন ডিলার থাকলেও শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে মাত্র একজন,বঙ্গবন্ধু কলেজের সম্মুখে একজন ও মৌলবিপাড়ায় একজন ডিলার একটি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছেন। শহরের অন্যান্য স্থানে খোঁজ করেও বাকি ৭ জন ডিলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
 
টিসিবি চিনি ৫৫, ছোলা ৭০, খেজুর ১২০, ডাল ৮০ টাকা কেজি এবং ভোজ্য তেল ৮৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করছে। বাজার দর থেকে টিসিবির পণ্য প্রতি কেজি ২০ টাকা কমে বিক্রি  হচ্ছে। এ কারণে  দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে টিসিবি পরিবেশকের পণ্য ।  দুপুরের পরে চাহিদামত পণ্য না পেয়ে অনেক ক্রেতাকেই ফিরছেন খালি হাতে।
 
টিসিবির পণ্য ক্রেতা ইয়ার আলী শেখ , কুলসুম বেগম, মতলব আলী ফকির জানান, টিসিবির প্রতিটি পণ্য বাজার থেকে অন্তত ২০ টাকা কমে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ  এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনে উপকৃত হন।  কিন্তু আমাদের চাহিদা মত পণ্য সরবরাহ নেই ।
 
টিসিবির গোপালগঞ্জ শহরের পরিবেশক বুলবুল আলম বুলু বলেন, বাজার থেকে টিসিবির পণ্যের দাম কম। একারণে এখানে ক্রেতারা  বেশি ভিড় করছেন। দীর্ঘ সময় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেককে পণ্য দিতে পারছি না। প্রতিদিন টিসিবি আমাদের মতো পরিবেশককে মাত্র ৩’শ কেজি করে চিনি, ছোলা ও মুসুরি ডাল এবং ২’শ লিটার সয়াবিন তেল দিচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। খুলনা টিসিবির ডিপো থেকে চাহিদা মতো পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়ানোর উচিৎ।
 
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা মধ্যে পণ্য সরবরাহের জন্য সরকার টিসিবি কার্যকর করছেন। টিসিবি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ পণ্য কিনতে পারে। তবে এরমধ্যে যদি কোন পরিবেশক পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ