মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প

g রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা থেকে কিছুটা পিছু হটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মেক্সিকো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সপ্তাহে সীমান্ত বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু তিনি ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

সীমান্ত দিয়ে আসা পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে জানিয়ে ট্রাম্পকে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মঙ্গলবারও ট্রাম্প সীমান্ত বন্ধের হুমকি দেন। তবে কবে নাগাদ তা করবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান। এই সপ্তাহে কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন কী ঘটে তা আমরা দেখতে চাইছি।’

সীমান্ত বন্ধ করে দিলে কোটি কোটি ডলার মূল্যের লাখ লাখ বৈধ পণ্যও যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো হোয়াইট হাউসকে গোপনে সতর্ক করেছে, সীমান্ত বন্ধ করে দিলে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের কারখানায় উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তাদের প্রয়োজনীয় বিপুলসংখ্যক যন্ত্রাংশ মেক্সিকো থেকে আনা হয়। মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের শীর্ষ লবিস্ট নেইল ব্র্যাডলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা দেশজুড়ে নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে জানিয়ে তারা এ বিষয়ে আলোচনার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এদিকে মেক্সিকো সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন প্রবাহের বিষয়টিতে তারা নজরদারি রাখবে। মধ্য আমেরিকা থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে মেক্সিকোর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। এ ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (মেক্সিকো) বলেছে তারা তাদের (অবৈধ অভিবাসী) থামাতে যাচ্ছে। দেখা যাক। তাদের থামানোর ক্ষমতা রয়েছে। এটা থামানোর জন্য তাদের আইন রয়েছে।’

 মেক্সিকো সরকার কতসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যাসহ এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্প প্রশাসনকে সবশেষ তথ্য জানিয়ে যাচ্ছে মেক্সিকো। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকানো ট্রাম্পের নির্বাচনী অ্যাজেন্ডার মূল বিষয় ছিল। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহূত সীমান্তটি বন্ধ করে দেওয়া খুব সহজ কাজ নয়। এমনকি রিপাবলিকান অনেক নেতারাও এতে সমর্থন দেননি।