অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গভীর উদ্বেগ
g বিবিসি
ব্রুনাইয়ে সমকামিতা ও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কঠোর ইসলামিক আইন চালু করা হয়েছে। এজন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে এই আইনটি কার্যকর করা হয়। এছাড়া চুরির জন্য অঙ্গচ্ছেদের মতো দণ্ডও রাখা হয়েছে।
গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ্ ইসলামি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, আমি দেশে ইসলামিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার দেখতে চাই। তবে এ সময় তিনি বিতর্কিত নতুন আইনটি সম্পর্কে কিছু বলেননি। নতুন এই আইনে অভিযুক্তরা যদি নিজেদের সমকামী বলে স্বীকার করে অথবা অন্তত চারজন প্রত্যক্ষদর্শী তাদের এ ধরনের কাজ করতে দেখে তবেই তাদের সমকামিতার দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে। এদিকে নতুন আইনটির বিষয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সে দেশের সমকামী সম্প্রদায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক সমকামী ব্যক্তি জানান, “ঘুম থেকে ওঠার পর আপনি অনুভব করলেন প্রতিবেশীরা, আপনার পরিবারের সদস্যরা এমনকী রাস্তার পাশে বসে ভাজা চিংড়ি বিক্রি করা ওই সুন্দরী বৃদ্ধা নারীটিও আপনাকে আর মানুষ বলে ভাবছে না আর তারা পাথর ছুড়ে মারার সঙ্গে একমত।”
এই দণ্ডবিধিকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক বর্ণনা করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনানুযায়ী, যে কোনো পরিস্থিতিতে পাথর ছোড়া, অঙ্গচ্ছেদ অথবা বেত্রাঘাত, আইনি সংস্থাগুলোর হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। এটি পালন করা প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলেও অধিকাংশ ধারাই মানে না ব্রুনাই।