কাস্টমস কর্মকর্তার পরিচয় দেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে মঙ্গলবার রাতে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: নুরুল হক, শেখ আলম, ফিরোজ আলম, মোশারফ হোসেন, মাসুদ রানা ও রেনু মিয়া ওরফে রনি। তাদের কাছ থেকে সহকারী কাস্টমস কমিশনারের দুটি র্যাঙ্ক ব্যাজ, ছয়টি সাদা শার্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২০টি ভিজিটিং কার্ড ও প্রতারণার কাজে ব্যবহূত আটটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে র্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মুঞ্জুরুল কবির।
তিনি বলেন, কাস্টমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া ও বিভিন্ন ব্যবসার নামে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। অনুসন্ধানে ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে কথিত অপারেশন চালায়। সহকারী কাস্টমস কমিশনার, কমিশনারের ভাই, শ্যালক বা ভাগ্নে পরিচয়ে বিভিন্ন লোককে কাস্টমস বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ চাকরি প্রার্থীকে প্রতারকদের সুবিধাজনক জায়গায় দেখা করতে বলে। পরে সহকারী কমিশনারের র্যাঙ্ক-ব্যাজ লাগানো পোশাক (ইউনিফর্ম) পরে দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে গিয়ে প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করে। বিশ্বাস অর্জনের পর ভুক্তভোগীদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধসহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাওয়া হয়ে যায়।
অপরদিকে, প্রতারক চক্রটি ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও কোম্পানিকে টার্গেট করে। টার্গেট করা ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের মাঠপর্যায়ের দালালরা যোগাযোগ করে সখ্যতা গড়ে তুলে। একপর্যায়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার ও তার ভাই-ভাগ্নে পরিচয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, কাস্টমসের আটক করা সোনার বার-বিস্কুট, জাপানি যন্ত্রাংশ, কটন সুতা, গোল্ডেন সুতা, সোনার চেইন, ল্যাপটপ, টিভি, মোবাইল ফোন ও কাগজসহ বিভিন্ন পণ্য কম দামে বিক্রি করা হবে। টার্গেটকৃত ভুক্তভোগী প্রস্তাবে রাজি হলে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের একটি অংশ আদায় করে তারা। পরে চুক্তির পণ্য সরবরাহ করার একটি কাল্পনিক তারিখ দিয়ে একপর্যায়ে এসে বলা হয় চুক্তির আগে মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ না করলে মালামাল সরবরাহ করা যাবে না। পরে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে প্রতারকরা।