কৃষিভিত্তিক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সমৃদ্ধ, উন্নত জীবন-যাপন আমাদের কৃষকরা কবে করতে পারবে? এ প্রশ্ন রেখে বক্তারা বলেছেন, কৃষি যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা আমরা কি ততটা গুরুত্ব দিচ্ছি? আমরা বাজেট যেভাবে বিশ্লেষণ করি, কৃষিনীতি নিয়ে কি সেভাবে বিশ্লেষণ করি? কৃষককে আমরা ফসলের নায্যমূল্য দিতে পারিনি। অথচ মাথার ঘাম ফেলে তারাই আমাদের জন্য ফসল উত্পাদন করছে। তাই কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে কৃষিভিত্তিক মিডিয়া সংলাপ-২০১৯ এ বক্তারা এ সব কথা বলেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর পরিচালক ড. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি ও কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীম রেজা।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানে আমরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারি না। কারণ, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা কঠিন। এজন্য মিলারদের কাছ থেকে কেনা হয়। তবে ধান কেনার অন্যতম যে উদ্দেশ্য কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া তা তারা পায় না। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কৃষিকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করা হবে। সেই সঙ্গে ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তাও দেওয়া যাবে।
ভর্তুকির বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার যদি কৃষিতে ভর্তুকি না দিত তাহলে এত পরিমাণ খাদ্য উত্পাদন কখনোই সম্ভব হতো না।
আবদুল মান্নান বলেন, কৃষককে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কৃষি পণ্যের উত্পাদন শুধু বাড়লেই হবে না। তা পুষ্টিমান সম্পন্ন হতে হবে।
কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন, চলতি বছর থেকে কৃষি নিয়ে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হবে।
মূল প্রবন্ধে ড. শামীম রেজা বলেন, কৃষির যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা, আমরা তা দিতে পারছি না। এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের কৃষকরা যাতে উন্নত জীবন-যাপন করতে পারে সেজন্য গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যে পুষ্টিমানও নিশ্চিত করতে হবে।