৩০ মে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘মোরা’র কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার ৪টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনও ৪০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। তারা মৃত বা জীবিত উদ্ধার হয়নি। পুটিবিলা এলাকা যেন বিধবা পল্লিতে পরিণত হয়েছে। পিতার সাথে পুত্র, নানার সাথে নাতি, মামার সাথে ভাগিনা, ভাইয়ের সাথে ভাই, শ্বশুরের সাথে জামাইসহ একই পরিবারে ৩/৪ জন করে জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ২৪/২৫ মে এর দিকে পুটিবিলা এলাকার মরহুম মোহাম্মদ আলী পুত্র স্থানীয় পৌর কাউন্সিল আব্দুল শুক্কুর এর মালিকানাধীন এফ. বি সায়েদ, এফ. বি ওয়ালিদ-১, এফ. বি ওয়ালিদ-২, ও একই এলাকার হাজি মোশারফ আলী পাড়া গ্রামের নুরুল আলম প্রকাশ, বাঁশি মাঝির মালিকানাধীন এফ. বি গাউছিয়া নামক ৪টি ফিশিং ট্রলার প্রায় ৮২ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। ২৯ মে প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র সিগন্যালের পর অসতর্কতার কারণে ৩০ মে ভোর রাতে ‘মোরা’র কবলে পড়ে ৪টি ফিশিং ট্রলার সাগরে ডুবে যায়।
এ সময় ৪টি ফিশিং ট্রলারে থাকা ৮২ জন মাঝিমাল্লা সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিল। ১ জুন ভারত থেকে বাংলাদেশে ত্রাণবাহী নৌ-জাহাজ সুমিত্রা ৩৩ জন জেলেকে সাগর থেকে উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক পক্ষের নিকট হস্তান্তর করে। উদ্ধার করা ৩৩ জনে মধ্যে আবু ছিদ্দিক নামে এক জেলে মৃত্যু বরণ করে। অপরদিকে টেকনাফের অদূরে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সদস্যরা হাবিব উল্লাহ, নিয়ামত উল্লাহ, আবু বক্কর ও আব্দু ছালাম নামের ৪ জেলেকে ২ জুন উদ্ধার করলেও এখনও ৪৫ জন জেলে সাগরে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের বিষয়ে মহেশখালী থানায় পৃথক ২টি ডায়রি দায়ের করেছে ট্রলার মালিক। অনেক নিখোঁজ মাঝি মাল্লার বাড়িঘর বাতাসে ভেঙ্গে গেলেও এখনও প্রশাসন বা স্থানীয় পৌর পরিষদ থেকে কোন ত্রাণ সামগ্রী পায়নি বলে নিখোঁজ জেলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে।
এই ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম জনান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেয়র তালিকা প্রদান করলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআই