গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্র হারুণ হাসনাত দিপুকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ওই ছাত্রের মামা হায়াত আলী অভিযোগ করে বলেন, 'দিপুর মা ও বাবা সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল। দাফনের সময় দিপুর শরীর রক্তাক্ত ছিলো। মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেই আমাদের ধারণা। আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েছিলাম। তবে দিপুর মা ছেলের লাশের ময়না তদন্ত করতে রাজি হননি। তাই ময়না তদন্ত ছাড়াই শুক্রবার লাশ দাফন করা হয়েছে।' এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেছেন দিপুর মামা।
নিহত দিপু ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নের ত্রীবিভাগদী গ্রামের বিজিবি সদস্য খলিলুর মাতুব্বুরের ছেলে। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্র বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে হারুন হাসনাত দিপুর মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। বজ্রপাত নাকি তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন থাকায় রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটকের সামনে বজ্রপাতে মারা যায় দিপু। বজ্রপাতের স্থলে গাছের পাতা পুড়ে গেছে। ঘটনার সময় বজ্রপাত ও ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে হত্যার বিষয়টি তারা নিশ্চিত নয়। যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
সহপাঠীরা আরও জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এনিয়ে সন্দেহ হলে তার লাশ ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বজ্রপাত উল্লেখ করা হলে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে শুক্রবার দিপুর লাশ তার গ্রামের বাড়িতে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।
চরযশোরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেছেন, দিপুর শরীরে বজ্রপাতে পুড়ে যাওয়ার কোন আলামত ছিলোনা। তার পকেটের মোবাইল ফোনটি অক্ষত ছিলো। তার পড়নের সার্ট রক্তাক্ত ছিলো। মাথা ও ঘরে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনো হয় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ড. সঞ্জয় কুমার ধর বলেন, 'আমাদের এখানে মৃত অবস্থায় ওই ছাত্রের লাশ নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক ভাবে ছাত্রের শরীরে বজ্রপাতের সিমটম পাওয়া গেছে। হয়তো আশপাশে বজ্রপাতে সে বিদ্যুতায়িত হয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। বজ্রপাত তার শরীরে পড়েনি। এ কারণে কোথাও পুড়ে যায়নি। বজ্রপাতের সময় পড়ে গিয়ে সে মাথায় আঘাত পেয়েছে। হাসপাতালে যখন নিয়ে আসে তখন মাথায় ব্লিডিং হচ্ছিলনা। লাশ নিয়ে রওনা দেয়ার আগে কান দিয়ে ব্লিডিং দেখা দেয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে যদি হত্যার অভিযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে তারা মামলা করতে পারেন।
ইত্তেফাক/জামান