মঠবাড়িয়া পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা, জনদুর্ভোগ চরমে

জেলার মঠবাড়িয়া পৌর শহরের প্রধান সড়কসহ সারা শহরজুড়ে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। এর ফলে শহরে চলাচলে জনদুর্ভোগ চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। শহরের প্রধান সড়কসহ সকল পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের পায়ে চলাও কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার না করার ফলে সড়কগুলোরও করুণ অবস্থা। অপরদিকে শহরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তাঘাট চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

শহরের বেশিরভাগ রাস্তাঘাটের পিচ পাথর উঠে যাওয়ার পর গত পাঁচ বছরেও শহরের বেহাল সড়কগুলো সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এমনিতেই শহরের দুই পাশে অপরিকল্পিত দোকানপাট গড়ে তোলা আর অন্যদিকে অপ্রশস্ত সড়কের কারণে শহরে যানজট লেগে থাকে। আবার বর্ষা মৌসুমে বেহাল সড়কে জলকাদায় পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আবার  শুষ্ক মৌসুমে বেহাল সড়কের ধুলাবালিতে পৌরবাসী অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হন।

সরেজমিনে দেখা যায়,  প্রায় এক লাখ জনসংখ্যার এ পৌর শহরে অপরিকল্পিত নানা স্থাপনা গড়ে ওঠলেও শহরের সড়কগুলো যেমন অপ্রশস্ত তেমনি এসব সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের হাইস্কুল থেকে থানাপাড়া হয়ে পাথরঘাটা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা হাজারও গর্তে ভরা। পৌরসভা থেকে পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল সড়কের অবস্থাও বেহাল। পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর ওয়াপদা সড়কের অবস্থাও নাজুক। এছাড়া মিরুখালী সড়কের শ্মশানঘাট এলাকা হয়ে আন্ধারমানিক পর্যন্ত পৌর শহরের সীমানার এক কিলোমিটার সড়কে পিচ পাথর নেই। এ সড়কটি এখন ধুলার সড়কে পরিণত হয়েছে। শহরের সবুজ নগর মহল্লায় পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারিত হলেও এ মহল্লার অলিগলিতে কোনো পাকা সড়ক নেই। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দারা বর্ষায় কাদাজলে ও শুষ্ক মৌসুমে খনাখন্দ ভরা সড়কের ধুলাবালি থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌর শহরের রাস্তাঘাট অলিগলি মিলিয়ে অন্তত ৬/৭ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল যা সংস্কার করতে পৌর কর্তৃপক্ষ একদমই উদাসীন। এ বিষয়ে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার রাস্তাঘাট এত বেহাল যে মানুষের চলাচলে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সালেক বলেন, মঠবাড়িয়া মিরুখালি সড়ক (পৌরসভার অংশ) টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বাকি সড়কের সংস্কার ও নতুন সড়কের কাজ করতে আর্থিক সংকট থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু