আগুন লাগার প্রধান তিন কারণ বৈদ্যুতিক ত্রুটি, সিগারেট ও চুলা

অগ্নিআতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। প্রতিদিন অগ্নিকান্ডের খবর মানুষকে সন্ত্রস্ত করছে। আগুন গ্রাস করছে মানুষের জীবন, বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, মার্কেট-ইমারত, দোকান-পাট-বিপণি বিতান সবকিছু। মানুষ বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন আবাসিক এলাকাগুলোতে। ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার। নিমতলী থেকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা, আশুলিয়ার তাজরিন গার্মেন্টস থেকে টঙ্গির টাম্পাকো ফয়েলস প্যাকেজিং কারখানা; আর এখন বনানীর পুড়ে যাওয়া এফআর টাওয়ারও সাক্ষী হয়ে আছে আগুনের ভয়াবহতার।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশে যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে,  তার প্রধান তিন কারণ হলো- বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলার আগুন ও জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরা। এছাড়া গাড়ি বা কলকারখানার ইঞ্জিনের ঘর্ষণ, খোলা বাতি, অতিরিক্ত তাপ ইত্যাদি কারণেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এদিকে আগুনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে ঢাকায়।                সব চেয়ে কম ঘটে সিলেটে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর বলছে, দেশের সব অগ্নিকান্ডে মৃত্যুর পরিসংখ্যান নেই তাদের কাছে। তাদের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ৮৯ হাজার ৯২৩টি অগ্নিদুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৬৫ জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৯৯ কোটি ৭২ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯২ টাকা। পরিসংখ্যান হিসেব করে দেখা গেছে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে অগ্নিদুর্ঘটনাও অগ্নিঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

গত বছর সারাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৯ হাজার ৬৪২টি। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮২৫টি অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত ঘটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। অর্থাত্ বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন, ব্যবহারকারীর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেই এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এসব আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিগত এক বছরে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩ হাজার ১০৮টি আগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরা থেকে। অর্থাত্ প্রায় ১৫ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী সিগারেটের জলন্ত ফিল্টার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ধূমপায়ীরা জ্বলন্ত সিগারেট যেখানে সেখানে ফেলে দেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের মতে, পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও মানুষ অহরহই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। এ কারণেই প্রায় সবখানেই ধূমপান করতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান বলেন, সিগারেট থেকে অগ্নিকাণ্ডের যেসব ঘটনা ঘটে, শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলেই এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অধিকাংশ অফিস ভবনে আলাদা করে ‘ধূমপান জোন’ থাকে না, ফলে সিঁড়িতে বা এদিকে ওদিকে মানুষ ধূমপান করে। যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। একটা সু্উচ্চ ভবনে ৩০ মিনিট ফায়ার ফাইটিং সক্ষমতা থাকতে হবে ভবন কর্তৃপক্ষের। পানি থাকতে হবে। কিন্ত অধিকাংশ ভবনে নেই।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ জানান, ঢাকা শহরের ভবনগুলো নির্মাণের শুরুতেই নানা ভুল করা হয়। প্রায় প্রতিটি ভবনের ক্ষেত্রে দেখা যায় সিভিল, মেকানিক্যাল, ফায়ার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে থাকেন। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও সমন্বয় থাকে না। মানুষের ভেতর সচেতনতা বাড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে। এসব ভুলের খেসারত দিতে হয় অগ্নিকান্ডের মধ্য দিয়ে।