রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। পানির দাবিতে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর ও মীর হাজিরবাগ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। পানির সংকট এতটাই তীব্র যে নিত্য-নৈমিত্তিক বা স্বাভাবিক কাজের জন্যও পানি জুটছেনা। টাকা দিয়েও ওয়াসা থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। ফলে তারা বাইরে থেকে কেনা পানিতে কোনো রকমে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এতে রোজাদাররা সীমাহীন কষ্টে পড়েছেন।
বিশেষ করে রাজধানীর ভাষানটেক, ইব্রাহিমপুর, বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, আনন্দ নগর, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আনন্দ নগর, আদর্শ নগর, আলিফ নগর, ডিআইটি প্রজেক্ট, আফতাব নগরসহ কয়েকটি এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে আছেন। এক অমানবিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকেই এখন রাজধানী ছেড়ে পরিবার-পরিজন গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় পানি সংকট চলছে। ভুক্তভোগীরা প্রতিদিনই স্থানীয় ওয়াসা অফিসে পানির জন্য ধর্ণা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা পাইপ লাইনের সমস্যা, পানির চাপ কম, গভীর নলকূপ অকেজোসহ নানা অজুহাত দেখাচ্ছে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, রমজানে মানুষের পানি সমস্যা দূর করতে একাধিক কারিগরী টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র তারা এলাকায় গিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
বাড্ডা থানাধীন আনন্দ নগরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ দিন যাবত্ পানি নেই এলাকায়। ওয়াসার লাইনে একফোঁটাও পানি আসছে না। ভাষানটেক এলাকার অধিবাসী মনির হোসেন জানান, এলাকায় পানির জন্য হাহাকার উঠেছে। স্থানীয় ওয়াসা অফিসে অভিযোগ করেও কোনো উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পানির দাবিতে গতকাল রবিবার ইব্রাহিমপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বাড়ি মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি জাহেদ আলীর নেতৃত্বে এলাকার শত শত মানুষ ঘটি-বাটি নিয়ে এই মিছিলে যোগ দেয়। বিক্ষুব্ধরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি সরবরাহের আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মতিউর রহমান মোল্ল্যা ইত্তেফাককে বলেন, এলাকায় গত ২ মাস যাবত্ পানি নেই। পানির জন্য হাহাকার উঠেছে। টাকা দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তিনি এই সংকট দ্রুত সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন।
ওয়াসার কাফরুল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মোতালেব বলেন, একটি পুরনো পানির পাম্প অকেজো হয়ে পড়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পটি সরিয়ে নতুন পাম্প বসানোর কাজ চলছে। এটি স্থাপিত হলে পানি সমস্যা সমাধান হবে। এতে আরো প্রায় এক মাস সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক, নূহু