মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও কার্যত তেমন ফল হচ্ছে না। টানা বর্ষণে ডুবে যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও দোকানপাট। অনেকের বাড়ির ভিতরেও ঢুকে পড়ছে বৃষ্টির পানি। নগরীর নিম্নাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে খুলনা মহানগরবাসী। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সম্পদ। কেসিসির মেয়র বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে খুলনা মহানগরীতে আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকঢোল পিটিয়ে নগরীর ময়ূরী, ক্ষুদের খালসহ বেশ কয়েকটি খাল খনন করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও নেয়া হয় নানা পদক্ষেপ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এত সব করা হলেও টানা বর্ষণে নগরীর পিটিআই মোড়, রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, শামসুর রহমান রোড, সিমেট্রি রোড, টুটপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, নতুন বাজার, স্যার ইকবাল রোড, কে ডি এ এভিনিউ রোড, জোড়াগেট, খালিশপুর বাস্তুহারা, বয়রা এলাকা, মুজগুন্নী, নেভি স্কুলের সামনে, হাউজিং বাজার, নতুন কলোনী, দৌলতপুর, খালিশপুরসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
নিম্নাঞ্চলের শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিপণী বিতানের আশপাশ বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। অনেকের বসত-বাড়ির ভিতরেও পানি ঢুকে পড়ছে। এছাড়া নগরীর নিম্নাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে মানুষ। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ- অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনা, বড় বড় খাল ভরাট, অবৈধভাবে দখল ও বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীদের মাছ চাষসহ নানা কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই। যত সব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ জামান বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খালগুলো অবৈধ দখল হয়ে পড়ায় মূলত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণ ও কর্পোরেশনকে দায়িত্ববান এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি খালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়। এর ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্পোরেশনের জনবল সারারাত কাজ করেছে। এখন পানি কোথায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা শনাক্তের কাজ চলছে। স্থানগুলো শনাক্ত করা গেলে ওইসব জায়গায় আটকে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। মেয়র বলেন, পানি দ্রুত নিরসনে ড্রেনের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে টাকা পেলে ওই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় কিছু খাল ও ড্রেনের কাজ করা হয়েছে। সিআরডিপি-২-এর আওতায় আরো কিছু কাজ করা হবে। এসব কাজগুলো সম্পন্ন হলে নগরীতে আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে না।
ইত্তেফাক, নূহু