ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিনের মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টর রায় বাতিল চেয়ে সেনা কর্মকর্তা নাজমুল হকসহ চারজনের করা রিট টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।
২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শার্মিলা শাহরিন পলিন মারা যান। ওই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ময়মনসিংহের কোতয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। কিন্তু ঘটনার ৮দিন পর পলিনের বাবা মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
২০১৩ সালের ২২ মে দাখিলকৃত বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাডেট কলেজের মিল্ক ব্রেকের সময় ভিকটিম শার্মিলা শাহরিন পলিনের হত্যাকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ওই ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের সাথে জড়িত ওই কলেজের তৎকালীন অ্যাডজুট্যান্ট মেজর নাজমুল হক, এনসিও সার্জেন্ট নওশেরুজ্জামান, সিকিউরিটি গার্ড হেনা বেগম ক্যাডেট কলেজসূমহের ডিএ এজি মেজর মুনির আহাম্মদ চৌধুরী এবং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/২০২/২০৩/৩৪ ধারার অধীনে অপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক যুগ পর ২০১৬ সালের ৩ মার্চ ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আসামি পক্ষ। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে ও মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। গত ২১ মার্চ ওই রুলের উপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ এবং পলিনের বাবা পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ৬ এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করে দেয়।
ইত্তেফাক/কেকে